Saturday, 26 September 2020

কোভিডমাঝে অমরাবতী

করোনার দাবানলে বিশ্ব সন্ত্রস্ত। এর আঁচ সমগ্র মানবজাতিকে স্পর্শ করেছে। কেউ নিজে আক্রান্ত, কারো আত্মীয়-পরিজন-বন্ধু। কেউ আক্রমণের ভয়ে সন্ত্রস্ত। আবার কেউ এই দুর্ধর্ষ শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামে ব্রতী। স্বাস্থকর্মী, পুলিশ প্রভৃতি  ঈশ্বরের প্রতিনিধিরা এই দুর্বিনীত মহাশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন মানুষের কল্যাণে, নিজের জীবন বিপন্ন করে । তেমনই চিত্র এক সরকারী হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে । পিপিই-বর্ম পরে অসংখ্য ডাক্তার, নার্স স্বাস্থ্যকর্মী ততোধিক রোগীর সেবায় আত্মনিয়োজিত প্রাণ। 


ডঃ রিয়া বসু । এই সরকারী হাসপাতাল থেকেই সম্প্রতি সম্মানের সাথে এম.বি.বি.এস পাস করেছে । ভালো কোনো জায়গা থেকে এম.ডি. করার ইচ্ছে । কিন্তু এই পরিস্থিতি তাতে বাধ সেধেছে । এই কলেজ-হাসপাতালের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভারী প্রিয় রিয়া । তাই কোভিড ওয়ার্ডে এই সংগ্রামের ডাক সে উপেক্ষা করতে পারে নি । তা ছাড়াও আর্তের কষ্টে চিরকালই তার প্রাণ কাঁদে । হয়তো সেই জন্যেই রিয়া ডাক্তারী পড়ার সিদ্ধান্ত নেয় । কৃতী ছাত্রী হওয়ায় সে পথও সুগম হয়েছে ।


এই ওয়ার্ডে কয়েকজন রোগীর ভার পড়েছে রিয়ার ওপর । তাদের মধ্যে অন্যতম স্বপ্নময় মিত্র । দিল্লি আই.আই.টি থেকে পিএইচডি করার পর আমেরিকায় পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ করছিলো । অসামান্য মেধাবী ছাত্র হওয়া ছাড়া স্বপ্নময়ের একটি মহৎ গুণ ছিল । সে ছিল মানব-দরদী । মানুষের বিপদ দেখলেই সে আর স্থির থাকতে পারে না । এবারেও তাই হলো । করোনার আগ্রাসনে বিপন্ন আমেরিকা থেকে ফিরেই সে দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করলো । তারপর এলো আমফানের বজ্রথাবা । ত্রাণ সংগ্রহ এবং বিতরণের কাজে মজে গেলো স্বপ্নময় । কিন্তু করোনা নির্মম, বিবেকহীন । সাধু-অসাধুর তফাৎ করেনা, রেয়াত করেনা । হঠাৎ প্রচন্ড জ্বর, স্বাস কষ্টের ঢেউ তাকে আছড়ে ফেললো এই কোভিড ওয়ার্ডে ।


রিয়া অবশ্য স্বপ্নময়ের ব্যাপারে কিছুই জানে না । তার কাছে স্বপ্নময় আর একজন রোগী মাত্র । তবুও প্রথমবার স্বপ্নময়ের কষ্টে ম্লান মুখখানি দেখে মায়া হয়েছিল তার । মায়া অবশ্য রিয়ার অসুস্থ মানুষ দেখলেই হয় । কিন্তু এই মায়া বোধ হয় একটু অন্য রকম । কেন ? তা রিয়া বোধ হয় জানে না ।


একদিন স্বপ্নময়ের খুব জ্বর । ঘোরে ভুল বকছে

'মা ... মা ভালো আছে ? মা ..'


স্বপ্নময়ের মা-ই তার একমাত্র আশ্রয় । বেশ কিছুদিন হলো বাবাকে হারিয়েছে সে । মায়ের কোভিড টেস্ট নেগেটিভ । তাও তাঁকে সেলফ ক্যাণ্টিনে রাখা হয়েছে ।


রিয়া তখন স্বপ্নময়ের পাশে, সে বলে


'আপনার মা ভালো আছেন ..আপনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন ..ওনাকে দেখতে পাবেন '


স্বপ্নময় বলতে থাকে


'তপন ..বাপ্পা .. সুন্দরবনে ফুড প্যাকেট পাঠিয়েছে? ..ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার করা হলো না। ...টাকা জোগাড় কি করতে পারবে ওরা ?'


বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়লো স্বপ্নময় । কথাগুলো দাগ কাটলো রিয়ার মনে ।


একমাসের ওপর হলো রিয়া বাড়ি ফেরেনি । সে তার কলিগ ললিতার সাথে হাসপাতালের কাছেই একটা বাড়ি ভাড়া করে থাকছে এ কদিন । রান্না বান্না তারাই কোনোরকমে করে চালাচ্ছে । কোনো কোনোদিন এমার্জেন্সি থাকলে হাসপাতালেই থেকে যেতে হয় । রিয়ার মা নেই, শৈশবেই গত হয়েছেন । বাবা আর বিয়ে করেননি । রিয়ার এক দাদা আছে । রক্তিম । ডাক নাম রুকু । সে লন্ডন-এ সেটলড । বাড়ি থেকে রিয়ার বিয়ের চিন্তা ভাবনা চলছিল । রিয়ার বাবার এক বাল্যবন্ধু অম্লান রায় । মস্ত ব্যবসাদার, কোটিপতি । তাঁর ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে রিয়ার বাবার সাথে কথা বলেছেন তিনি । এক ফ্যামিলি ফাঙ্কশন এ তাঁরা রিয়াকে দেখেন । রিয়া বেশ সুশ্রী। রুচিশিলা । মার্জিত নরম স্বভাব । কারো মুখের ওপর কথা বলতে পারে না । রিয়া তাই প্রথমে আপত্তি করেনি । তবে অম্লান বাবুর এই কথায় সে যেন বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে পরে --


'আমার এতো ব্যবসা, এতো সম্পত্তি, বাড়ি গাড়ি সবই আমার ছেলে পাবে । একমাত্র ছেলে । বাড়ির বৌ আর অত লেখাপড়া, চাকরি বাকরি করে কি করবে ? ডাক্তারীতে অনেক ঝক্কি ! দিন নেই রাত নেই । রোগীর সবা করো । এটা একটা লাইফ হলো ? আমার বাড়িতে আরামে থাকবে, পায়ের ওপর পা তুলে..হা হা "।


বাল্যবন্ধু বলে রিয়ার বাবাও কিছু বলতে পারেননি । অম্লান বাবুর ছেলেটি ফরওয়ার্ড গোছের । প্রথম দেখার পর ফোন নম্বর চায়, তারপর কফি, সিনেমা ইত্যাদির প্রস্তাব । রিয়া নানা অজুহাতে এড়িয়ে গেছে নরম ভাবেই । কিন্তু ক্রমে রিয়ার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো । স্বপ্নময়ের আবির্ভাব তার মনের জানলা আবার খুলে দিয়েছে ।


আর একদিন । স্বপ্নময়কে খুব অস্থির দেখে রিয়া তার কাছে গেলো । তখন স্বপময়ের বেশ জ্বর । অপ্রকৃতস্থ অবস্থা । তাকে দেখেই স্বপ্নময় বলে উঠলো


"দেখুন না ডক্টর এরা আমায় আমার মোবাইলটা দিচ্ছে না । মায়ের খবর পাচ্ছি না । মা নিশ্চই আমার চিন্তায় আহার নিদ্রা ত্যাগ করেছে।.."


বলেই কেশে উঠলো স্বপ্নময় । রিয়া তাকে বললো


"আপনি এতো উত্তেজিত হবেন না দয়া করে । আপনার মা ভালো আছেন । আমরা নিয়মিত খবর দিচ্ছি ওনাকে ।"


"আপনারা বুঝতে পারছেন না । কত লোকের বাড়ি ভেঙে গেছেন জানেন ? কত লোকের কাজ নেই, তারে খাবে কি? সরকারের ত্রাণ পৌঁছাতে পৌঁছাতে সবাই না খেয়ে মরে যাবে । ওরা টাকা জোগাড় করতে পারলো কিনা কে জানে ? এতগুলো অসহায় মানুষ । আর আমি কিনা বেডে শুয়ে আছি !"


বলে আবার কেশে উঠলো । একটু শ্বাসকষ্ট হচ্ছে স্বপ্নময়ের । রিয়া স্বপ্নময়ের পাশে বসলো । স্বপ্নময়ের চোখের চাহনিতে কি একটা ঔজ্জল্য রয়েছে, এই রুগ্ন চেহারাতেও তা স্পষ্ট । যেন অগ্নিশুদ্ধ সোনার মতো । কর্মযোগীর তেজোদীপ্তি যেন । রিয়া বললো


"দেখুন, আপনি যদি সুস্থ না হন তাহলে ওদের জন্যে কিছু করতে পারবেন কি ?"


স্বপ্নময় মাথা নিচু করলো । রিয়া বলে চললো


"আপনি খুব তাড়াতাড়ি সেরে উঠুন । অনেকে আপনার মুখের দিকে চেয়ে আছে ।"

রিয়া জানে অনেকের মধ্যে সেও একজন ।


স্বপ্নময়ের মুখে এবার হাসি ফুটে উঠলো । কি প্রশান্ত, কি পবিত্র সে হাসি যা রিয়ার মনে হাজার পারিজাতের সুবাস ছড়িয়ে দেয় ।


সেদিন রিয়া গিয়ে দেখে স্বপ্নময়ের বেড খালি । গতকালই বেশ অসুস্থ ছিল সে । বুকের ভেতরটা ছাঁত করে উঠলো রিয়ার । রাতের শিফ্টের কাউকে পেলো না । হঠাৎ শুনলো ওয়ার্ড বয় বলছে "বেড নং ৫ এমার্জেন্সিতে। ..অক্সিজেন লাগবে .."। স্বপ্নময়ের বেড নং ৫! তাকে জিজ্ঞেস করতে জানা গেলো হঠাৎ স্বপ্নময়ের অবস্থার অবনতি ঘটেছে । হঠাৎ প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয় রাত ৩টে নাগাদ, অনেক জ্বর । তাকে এমার্জেন্সিতে ভেন্টিলেটর-এ রাখা হয়েছে । সম্প্রতি অনেক করোনা জনিত মৃত্যু দেখেছে রিয়া । বৃদ্ধ, তরুণ অনেকর মৃত্যু । কিন্তু স্বপ্নময়ের এ পরিস্থিতি যেন বুকের ভেতরটা তোলপাড় করে দিলো রিয়ার । সে ছুটে গেলো এমার্জেন্সিতে । দেখলো স্বপ্নময়ের নাকে-মুখে ভেন্টিলেটর, আরও লাইফ সাপোর্ট । পালস স্টেবল নয়, মাঝে মাঝে সিংক করছে । আর সিনিয়র ডাক্তার এই মুহূর্তে কেউ নেই । রিয়া চোখ বন্ধ করে স্নায়ু শক্ত করে নিলো । সামনে কঠিন যুদ্ধ । এ যুদ্ধ যেন সে নিজের জন্যেই লড়ছে ।


এই ভাবে ৫০ ঘন্টা কাটলো । রিয়া এমার্জেন্সি থেকে নড়েনি । অভিজ্ঞ ডাক্তার পরের দিকে এসেছিলেন । কিন্তু রিয়া তার আহৃত সমস্ত ডাক্তারি বিদ্যা উজাড় করে দিয়েছে । রিয়া খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিল । সেই কারণেই সে তার ডাক্তার শিক্ষক শিক্ষিকাদের এতো প্রিয় । আজ তার শিক্ষা সার্থক । স্বপ্নময় চোখ খুলেছে । জ্বর নেই । মুখে সেই স্বপ্নময় হাসি ।


আজ স্বপ্নময় অনেকটাই সুস্থ । ১৫ দিন হয়ে গেলো । এবার তাকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেওয়া হবে । রিয়া আজ আবার স্বপ্নময়কে দেখতে গেছে । স্বপ্নময়ের মুখে সেই হাসি ফুটে আছে । সে রিয়াকে বলে


"ড: বসু কি বলে যে আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাবো! "


পিপিই -তে মানুষ চেনা যায়না । রিয়ার বুকের কাছে তার আই ডি কার্ড ছিল । তাই দেখেই স্বপ্নময় তাকে চিনেছে ।


"..আমি শুনলাম আপনি আমায় যমের  হাত থেকে বাঁচিয়ে এনেছেন। ..আপনার কাছে আমি চিরঋণী হয়ে গেলাম .."


রিয়ার মনে আজ হাজার পারিজাত ফুটে উঠেছে স্বপ্নময়কে সুস্থ পেয়ে, তার স্বপ্নময় হাসিতে । তার মনের ভাব হয়তো স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তার ডাগর চোখে, সুশ্রী মুখে ফুটে উঠতো । কিন্তু পিপিই ভেদ করে তা অবলোকন করা স্বপ্নময়ের সাধ্য নয় । মনের ভাব গোপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করে রিয়া বলে


"এ কি বলছেন ছি ছি । এতো আমাদের ডিউটি ।"


"ডিউটি আজকাল এতো নিপুণ ভাবে কজন পালন করে বলুন! তার জন্যে একটা একাগ্র মন থাকা চাই, নিষ্ঠা থাকা চাই । "


বলে স্বপ্নময়ের হাসি দ্বিগুণ হয়ে ওঠে ।


রিয়া ভাবে, ও কি তার মনের কথা বুঝে গেলো ? তারপরই মনে হলো কাল যদি ওকে ছেড়ে দেয় , যোগাযোগ হবে কি ভাবে ? যদি না হয় ? তাহলে কি করবে রিয়া ? কন্টাক্ট নাম্বার চাইবে ? কিন্তু সেটা কি করে চাইবে সে ? না না ! তা কিছুতেই পারবে না রিয়া ! রিয়ার নীরবতা ভেঙে স্বপ্নময় বলে

"সুন্দরবনে অনেক লোক খাবার জল, চাল, ডাল পেয়েছে জানেন । আমি কিছু টাকা ট্রান্সফার করলাম । আপনারা আমায় আমার ফোন ব্যবহার করতে দিয়েছেন বলে অনেক ধন্যবাদ । আরো অনেকে এগিয়ে এসেছে । এতদিনে সরকারের ত্রাণও এসেছে ।"


রিয়া কিছু না ভেবেই যেন বলে ফেললো


"আমার পরিচিত যদি কেউ ডোনেট করতে চান. . মানে করোনা বা এই ধরণের কাজে ..তাহলে?...আমি কি আপনাকে বলতে পারি ?"


স্বপ্নময় যেন আনন্দে লাফিয়ে উঠলো ! বললো


"বাঃ সে তো বেশ ভালো কথা ! আপনি আমার সাথে যোগাযোগ করুন । আপনার হোয়াটস্যাপ নম্বর বলুন ।"


রিয়া বলে । সঙ্গে তার মনের জানলা থেকে পারিজাতের সুবাস এসে তার মনটা ভরিয়ে দিলো ।


কিছুদিন কাটে । রিয়ার ধকল আরও বাড়ে । স্বপ্নময়ের সাথে আর যোগাযোগের সুযোগ হয়না । একদিন রাতে ঘরে ফিরে দেখে স্বপ্নময় হোয়াটসআপ করেছে


"সরি আপনার নম্বর তা সেদিন সেভ করলাম, কিন্তু আপনার সাথে যোগাযোগ করিনি । আজ মা সেদিনের ঘটনার কথা জেনে আপনাকে অনেক আশীর্বাদ জানাতে বললো । তাই জানালাম :-) ভালো আছেন তো ?"


রিয়ার সব ক্লান্তি নিমেষে মুছে গেলো, লিখলো


"আপনি ভালো আছেন তো ? এখন আর বেরোবেন না যেন। "


":-) সে দেখা যাবে"


"দেখা যাবে মানে? আবার অসুস্থ হলে ?"


"আপনি রয়েছেন তো । সামলে নেবেন :-)"


রিয়া চুপ করে গেলো । তার মুখে এক প্রশান্ত হাসি । এবারেও স্বপ্নময় তা দেখতে পেলো না । রিয়ার মন জুড়ে স্বপ্নময় স্বর্গের আবেশ, কোটি কোটি পারিজাত তাতে প্রস্ফুটিত । রিয়া ক্রমশঃ অবচেতনের গহীনে তলিয়ে যেতে লাগলো । হাত পা অবশ হয়ে এলো । ললিতা রান্না ঘরে ছিল । কি একটা শব্দ পেয়ে দৌড়ে এসে রিয়ার অচেতন দেহ দেখতে পেলো


রিয়া এবার চোখ খুলেছে । সে হাসপাতালের বেডে । নার্স পাশেই ছিল, বললো


"আপনি অনেকদিন অজ্ঞান ছিলেন । ব্রিদিং ট্রাবল । করোনা টেস্ট হলো । নেগেটিভ ।"


রিয়ার কিছু মনে নেই । শরীর খুব দুর্বল ।


ডাক্তার এলেন । ডঃ মুখার্জী । সিনিয়র সার্জন । রিয়ার প্রিয় মাস্টারমশাই । এনার অনুরোধেই রিয়া কোভিড ওয়ার্ড-এ আসে । ডঃ মুখার্জী রিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন


"ওভার ওয়ার্ক হয়ে গেছে মা । বাড়ি গিয়ে রেস্ট নাও । অনেক ধকল গেছে । "


রিয়ার বাবা এসে নিয়ে গেলেন রিয়া কে । রাস্তায় যেতে যেতে বললেন


"উফ ! কেন মা জেদ করে গেলি বল ! তোর কিছু হয়ে গেলে ?"


রিয়া চুপ করে মাথা নিচু করে রইলো । বাবা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন


"ও হ্যাঁ । স্বপ্নময়ের মায়ের সাথে কথা হলো । "


নামটা শুনেই রিয়ার মনে সেই পরিচিত সুবাস আবার অনুভূত হলো । সে বিষ্ফারিত চোখে বাবার দিকে চাইলো । বাবা মেয়ের মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে বললেন


"এ এক অদ্ভুত যোগাযোগ জানিস । স্বপ্নময় রুকুর স্কুল ফ্রেন্ড । ফেসবুক এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে পরে তুই রুকুর বোন । তুই দাদাকে বলেছিলিস অম্লানের ছেলেকে তুই বিয়ে করতে চাসনা ?"


রিয়ার মাথা নিচু হয়ে গেলো ।


"আমিও ঠিক চাইছিলাম না জানিস । কিন্তু ওই তো জানিস আমার স্বভাব, মুখের ওপর না বলতে পারি না"


রিয়ার মুখে প্রশান্ত হাসি ফুটে উঠেছে ।


"ছেলেবেলার বন্ধু তো ..যাগগে ! রুকুর মাধ্যমে স্বপ্নময় ও ওর মা তোর ব্যাপারে আরও জেনেছে । উনিও স্বপ্নময়ের জন্যে পাত্রী দেখছিলেন ..আমিও জানলাম ওর ব্যাপারে।...হীরের টুকরো ছেলে ! আই.আই.টি খড়গপুরে ফ্যাকাল্টি পসিশন পেয়েছে জানিস! ও জয়েন করতেই ফিরেছিল আমেরিকা থেকে । "


রিয়ার মনে অমরাবতীর ঢেউ উথাল পাথাল করছে । সে বাবার হাত ধরে বাবার কাঁধে মাথা রেখেছে । খুব আনন্দ হলে সে তাই করে ।


বাড়ি ফিরে রিয়া হোয়াটসাপে টোন শুনে খুলে দেখে স্বপ্নময়


"কি ডোনেশন এর কি হলো ? :-)"


রিয়া উত্তরে স্মাইলি দিলো


"এই জন্যেই তো আমার নম্বর চেয়েছিলেন? নাকি?"


রিয়া চুপ করে রইলো । লজ্জায় অনুরাগে সে আবিষ্ট । অনেক কষ্টে সামলে নিয়ে লিখলো


"শুনলাম আপনি আই.আই.টি তে ফ্যাকাল্টি পসিশন পেয়েছেন । কৈ একবারের জন্যেও তো বলেননি আমায় !"


স্বপ্নময় লিখলো


":-) ওসব ছাড়ুন ...আপনাকে তো দেখতে গেছিলাম হাসপাতালে । আপনি সেন্সলেস ছিলেন । আমায় ললিতা বললো। মা কে বলি, মা তো কান্না কাটি করে একশা । যাক তারপর রুকুর থেকে জানলাম আপনি ওর বোন । এদিকে মায়ের নাকি আপনাকে ভারি পছন্দ ! হোয়াটস্যাপ, ফেসবুকে আপনার ছবি দেখে, আপনার কথা শুনে । আমি বললাম -- বোঝো কান্ড! এদিকে রুকুও বলে -- তুই ছিলি কোথায় ভাই! এদিকে আমার বোনটা তো অপাত্রে দান হয়ে যাচ্ছিলো :-) :-)

কি হলো? আছেন তো?"


রিয়া তখন যেন স্বপ্নাচ্ছন্ন । স্বপ্নময়ের প্রশ্নে সম্বিৎ ফিরলো । লিখলো

"হ্যাঁ "


"যাক ! রুকু আর আমার মা মিলে তো সেমিফাইনাল করে ফেলাইছে । কিন্তু ফাইনাল রাউন্ডটা বাকি, বুঝলেন তো ।"


রিয়া অবাক হয়ে লিখলো


"মানে?"


"মানে পাত্র পাত্রীর মত তো চাই নাকি ?? :-)"


রিয়া এতক্ষণে লজ্জায় আরক্ত হয়ে গেছে । অনেক কষ্টে একটা স্মাইলি দিলো । স্বপ্নময় বললো


"মানে শুধু আপনার মত পাওয়াই বাকি আর কি :-)"


রিয়ার দেহে মনে সেই সুবাস হিল্লোলিত । এবার সে জ্ঞান হারাবে না । কিন্তু সে কি হারিয়েছে তা সে প্রথম দিন থেকেই জানে ।

Monday, 30 December 2019

হবা

দেখেছি চোখে তোমার
পুরীর সৈকত-বালির ঝিকিমিকি
বা অমলতাসের  পাপড়িতে
ভোরের আলোর বিচ্ছুরণ ।

ওই অতল গহীন চাহনি
নীরবে যেন ভাসে
ঝিলের শালুক হয়ে
সুপ্ত সম্বিতের কুয়াশা মেখে ।

মোলায়েম হাসি তোমার
যেন সৃষ্টির শুরুর থেকেই ছিল;
একবার শুনেছিলাম,  তুমি যখন হবা,
আর আমি সেই আধ খাওয়া আপেল --
রাখা ছিল অজানা মেঘের আড়ালে তারার মতো
অনন্তের অজ্ঞাতবাসে;
আমায় দেখেই যেন সরেছে সেই মেঘ
পুনর্মিলনের বাঁশি হয়ে
এলে কর্ণ-কুহরে ।

হয়তো পল্লবী-পর্ণী হয়ে ছিলে তুমি
বিজন বীথিকায়
বা বাগানের তরু মাঝে
বা কোনো অজ্ঞাত সাওঁতালিনির সাজে;
বা হয়তো ঘুমিয়ে ছিলে
নিশ্চিন্ত শান্তি হয়ে 
আমের মুকুলে,
বা বাবুই পাখির বাসায়
জোনাকির নরম আলোয় ।

চাতকের মতো চেয়েছি তোমায় কতবার--
আকাশ-বাতাস-তারা-পাখি
সবার কাছে একটু একটু করে চেয়েছি তোমায়
তিল তিল করে গড়ে তুলবো বলে,
পেলাম না তোমায়, পেলাম না কিছুতেই !
অবক্ষয়ে ঝরে ঝরে, মন্বন্তরের ফসলের মতো 
শুধু স্মৃতি-টুকুই রয়ে যায় বার বার ।

ভাবছি  এবার খুঁজবো তোমায়
নতুন করে, নতুন ভাবে --
হতশ্রীর শূন্য পাতে;
পতিতার বিক্রিত অঞ্চলে,
মধ্য-বিত্তের অসহিষ্ণতায়,
আর, মৃত সৈনিকের বুকে ।
 
============================
 
নিজের লেখা কবিতাটি নিজের কবি-সত্তা সরিয়ে রেখে, পাঠকের চশমায় পড়ার চেষ্টা করলাম । দেখলাম, কিছু জায়গা এমন রয়ে গেছে যা হয়তো আরও সহজ ভাবে বোঝা গেলে ভালো হতো । আমি নিজে খুব তুচ্ছ, নিতান্তই শখের কবি; অল্পই আমার সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা, খুবই সীমিত আমার জ্ঞান । সাধারণ-স্তরের পাঠক হিসেবে মনে করি, এটি কোনো লেখক/কবির দ্বায়িত্ব থেকে যায়, যতটা সম্ভব নিজের মনের ভাব পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ।  সাধারণ পাঠক কবির মনের খবর না পেলে, তাঁর রচনা উপভোগ হয়তো সম্পূর্ণ ভাবে করতেও পারবেন না । আর পাঠক লেখা বুঝতে পারলেও তিনি ঠিক বুঝেছেন কিনা সেটা জানার কোনো উপায় থাকে না । কারণ সাধারনত কবি কবিতার সাথে কোনো "মানে বই" বা নোটস গোছের কিছু রেখে যান না :-) এ ঘটনা আমার ক্ষেত্রে আকছার হচ্ছে । পড়ি, কিন্তু বুঝতে পারিনা বা যা বুঝলাম সেটাই কবি বলতে চাইছেন কিনা বুঝতে পারিনা । তাই আমি আমার কবিতা সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি ।

এখানে বলে রাখা ভালো আমি পাঠকদের মোটেই নির্বোধ, কাব্য-বোধ আস্বাদনে অক্ষম মনে করছি না । তাই কেউ অপরাধ নেবেন না । কিন্তু আমি নিজে যেহেতু খুব কমই বুঝি তাই ভাবি সবাই হয়তো আমার মতোই কম বোঝেন :-) নিচে কবিতা সংক্রান্ত কিছু সম্ভাব্য FAQ ও তাদের উত্তর দিলাম :

প্রঃ কে এই হবা? কেন তাঁকে খুঁজছেন কবি ?
উঃ সবাই অবগত আছেন "হবা" হলেন সৃষ্টির প্রথম নারী যাকে আমরা "ইভ" নামেও চিনি । এই কবিতায় বলা যেতে পারে তিনি হলেন মনের শান্তি, তৃপ্তি  বা কাঙ্খিত কোনো ভাব যা মানুষ সৃষ্টির সূচনা থেকেই খুঁজে এসেছে প্রকৃতির কোলে বা অন্য কোনো পছন্দের জায়গায় । কিন্তু এখানে কবি সেই শান্তি খুঁজে পাচ্ছেন না । জীবনের টানাপোড়েনে, সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ে সেই শান্তি/তৃপ্তি লুপ্ত । তাই তিনি হন্যে হয়ে সমাজের নিপীড়দের কাছে এই শান্তির সন্ধান করছেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস প্রকৃত তৃপ্তি সেখানেই পাওয়া যাবে ।

প্রঃ কবি কেন "হতশ্রীর শূন্য পাতে" খুঁজছেন ?
উঃ "শূন্য পাত" অর্থাৎ খাদ্যের অভাব । খাদ্যে মেলে খিদের  জ্বালা থেকে মুক্তি । হয়তো তার চেয়ে বড় তৃপ্তি আর হয়না । এই পাতে যদি সামান্য খাদ্যও মেলে তাতেই হবে শান্তির/তৃপ্তির বিরাজ । কারণ এই খাদ্য কেবল মাত্র ক্ষুধা নিবৃত্তিতে ব্যবহৃত, বিলাসিতায় নয় ।

প্রঃ কবি কেন "পতিতার বিক্রিত অঞ্চলে" খুঁজছেন ?
উঃ "অঞ্চল" চিরাচরিত ভাবে ভারতীয় নারীর লাজের প্রতীক-স্বরূপ। এতেই তার আত্মমর্যাদা, তার আত্মপ্রত্যয় । পতিতা, যে সেই সম্পদ হারিয়েছে, তার কাছেই এই লাজের মূল্য সব চেয়ে বেশি ।

প্রঃ কবি কেন "মধ্য-বিত্ত্বের অসহিষ্ণুতায়" খুঁজছেন ?
উঃ
মধ্য-বিত্ত আপন সুরক্ষিত জীবনে সুখী, নিজের সংসারের কল্যাণে অনেক অন্যায় অবিচার মুখ বুজে সয়ে যান । তিনি সর্বংসহ, সহিষ্ণু । কিন্তু তাতে শান্তি মেলে না । যদি তিনি অসহিষ্ণু হতে পারতেন, প্রতিবাদ করতে পারতেন এই অবিচারের অচলায়তনের বিরুদ্ধে, তবে  হয়তো তৃপ্তি পেতেন ।

প্রঃ কবি কেন "মৃত সৈনিকের বুকে" খুঁজছেন ?
উঃ মৃত্যুর আগে সৈনিক তার সব চেয়ে কাছের মানুষ, সব চেয়ে আনন্দের মুহূর্ত মনে করতে চায় । তার বুকে তখন সেই অনাবিল তৃপ্তি স্থান পেতে চায় ।
 

IIT কানপুর : মনের অর্ঘ

চোখের সামনে ছিলে যবে তুমি 
হৃদয়ে স্থান দিয়েছি
হারিয়ে তোমায় বারে বারে যেন
আরও বেশি করে চেয়েছি ।

আঁচলে তোমার স্নেহের পরশে
কত ভালোবাসা পেয়েছি,
আপন ভেবে কত না-পাওয়ার
বেদনা বিলিয়ে দিয়েছি ।

ব্যর্থ হৃদয়ে তোমার দেউলে
কত দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি,
আত্মজ্ঞানের শিক্ষা পেয়ে
জীবনের পথে চলেছি ।

Mentor-এর পথ-নির্দেশ আর
ভুবন-দোলানো হাসি,
তার  সংস্কৃতি মনস্কতায়
হয়েছি জ্ঞানপিয়াসী ।

দেব-আশীষে পেয়েছি আমি
আপন জনের পরশ,
তাদের স্নেহের ছায়ায়
পেয়েছি স্বস্তি, পেয়েছি  হরষ ।

বাগদেবীর আরাধনায় 
করুণা-সিক্ত হয়েছি,
শক্তি-পূজায় আলোক প্লাবনে 
কালিমা-মুক্ত হয়েছি ।

চাতক হয়ে দেখেছি কত
ময়ূর-পেখম-ছটা,
উষ্ণ দিনে মুগ্ধ করেছে
অমলতাসের স্বর্ণ-জটা ।

অসীমের  করুনায় পেলাম
আগামীর  অনুদান,
উত্তরসূরির আগমনে
তৃপ্ত হয়েছে  প্রাণ ।

IIT কানপুর--
ধন্য  আমি  পুণ্য আমি
তোমার  করুণা  দানে
শতবার আমি  প্রণাম  জানাই
এই  বিনীত  গানে ।


পুনশ্চ: IIT কানপুরে যে নতুন সম্পর্কের তার বাঁধা হয়েছে, তার অনুরণন আমার জীবনকে আরও মধুময়, সংগীতময় করেছে । জনৈক সহৃদয় "Mentor" অর্ণব দার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই । দেবোপমদা-মিনিদিদির জন্যে জন্মস্থান থেকে দূরে থেকেও আপনজনের অভাব বোধ করিনি । RM-504 ল্যাবের শঙ্করদা এবং আরো অনেকের কাছে পেয়েছি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিপদের দিনে সহযোগিতা ও উপদেশ যা আমার আগামী দিনের পাথেয়, বহু সাধনার ফল, কুবেরের সম্পদের চেয়েও অমূল্য ।

Tuesday, 4 September 2018

তিমির আশা

চলছে আমার কাটা ছেঁড়া
ক্ষিপ্র হাতের ছুরি-কাঁচিতে;
আমার ঘিলুর ওজন কত
কি আমার রক্তের রঙ
-- সব বুঝতে,
মায়াহীন হীমঘরেতে ।


শুনি কত ফিসফিস
আমার কলঙ্কের  কথা;
শোনেনা কেউ কান পেতে
আমার হৃদপিণ্ডের বোল
কি স্বপ্ন বাজছে তাতে
গহীন দেশের মর্ম-বাসে ।

টুকরো হই আমি, ছিন্ন হই আমি;
অবশ আঙুলের ফাঁক দিয়ে
পালায় বহুদিনের সাধ-গুলো,
নিজেকে আঁকড়ে বেঁচে থাকি ।

কত আঘাত আসে সজোরে
কত বিন্দু বিন্দু রক্ত ঝরে,
জমাট বেঁধে উঠে যায়
আকাশ-গেলা পাঁচিল হয়ে ।

পাঁচিল জড়ানো শেকড় বেয়ে উঠি, 
মোক্ষের সন্ধানে;
আর পিছলে পড়ি বার বার ।
তবু খুঁজি শেকড়ের ফাঁকে ফাঁকে
পারিজাত, মৃত্যুঞ্জয়ী পুষ্প-লতা,
তিমিরের মাঝে প্রথম আলোর আশ নিয়ে ।।

-

কৃপা

Monday, 23 April 2018

शयरि

दिल के शख पर​
जो तरन्नुम फुटे है
सच्चे नहि
वो तो झुठे है |

--

इस मुसकुराहाट के चिलमन को हटाके देखो
हज़ारो टुटे हुए ख्वाब मिलेंगे
इस सुकुन भरि सिने को चिड़के देखो
देहेकते हुए आफताब मिलेंगे |

काव्यम्

प्रलय् (Pralay) महोदय:,

अहम् भवते एकम् काव्यम् रचयामि। कृपेण पठतु संशोधनम् करोतु च् मर्ग: दर्शयतु । धन्यवाद:।।

हे प्रलय् !
(त्वम्)
ज्ञानम् वितरनाय
न्यायस्य उद्धार्थाय
मम देशे आगतवान,
संस्कृतमातायै भजनार्थाय
भारतदेशे धर्म स्थापनार्थाय आगतवान ।

हे प्रलय् !
(त्वम्)
संस्कृतस्य ज्ञान वृक्षम्
एकनिष्ठम् स्थितप्राज्ञम्
ज्ञाननिधिबिभुषणम
पवित्रम् सुशिलम्
सुहास शोभितम् ।

हे प्रलय् !
तव ज्ञान वृक्षात्
ज्ञान सुधा वर्षति
तव स्पर्शेन
ज्ञानपारिजातम् विकसति ।


हे प्रलय्!
तव निर्देशेण
अस्माकम् ज्ञानपिपासा त्रिप्तति
अज्ञानस्य तिमिरम् निवारनाय
तव मणीषाशिखा सदा ज्वालयिष्यति ।


हे प्रलय्!
त्वाम्
पुन: पुन: नमामि च
धन्यवादम् ज्ञापयामि ।।

--

English (expected meaning of the above poem)

O Pralay!
To distribute knowledge
To reinstate justice
You have come to my country,
To worship Mother Samskrita
To reinstate Dharma in my country.


O Pralay!
(You are)
A Samskrita wisdom tree
Dedicated, upright
Decorated with the treasure of knowledge;
Holy, well-behaved
Decorated with a pleasant smile.

O Pralay!
From your knowledge tree
Rain holy drops of knowledge,
By your divine touch
Blossoms the Parijaat (the tree of Swarga).


O Pralay!
With your instructions
Our knowledge-thirst is quenched,
To eliminate the darkness of ignorance
Let your flame of knowledge burn forever.


O Pralay!
I salute you again and again
and thank you.
--

এবার বাংলাতেও (কিঞ্চিৎ  পরিবর্তিত)

হে প্রলয়!
জ্ঞান  বিতরনার্থে,
ন্যায়  স্থাপনার্থে
তব আগমন,
সংস্কৃতমাতা বন্দনার্থে,
ভারতদেশে ধর্ম স্থাপনার্থে
তব আগমন ।
হে প্রলয় !
(তব)
সংস্কৃত জ্ঞানবৃক্ষ,
একনিষ্ঠ স্থিতপ্রাজ্ঞ,
জ্ঞানানিধিবিভূষিত,
পবিত্র, সুশীল,
সুহাস-শোভিত ।


হে প্রলয় !
তব জ্ঞান মহীরুহ হতে
জ্ঞান সুধাকণা বরষে,
তব পুণ্য পরশে
জ্ঞান পারিজাত ফোটে হরষে ।

হে প্রলয় !
তব মহিমায়
মোদের অজ্ঞানতা হয় বিলীন,
তব দুনির্বার জ্ঞান শিখা
জ্বলুক অন্তহীন ।

তোমায় জানাই
করজোড়ে
উষ্ণ নমস্কার,
গলায় তোমার পরিয়ে দিলাম
ধন্যবাদের পুষ্পহার |

--

कृपा