Wednesday, 26 August 2015

শুভ জন্মদিন : অদিতী (অপ্রকাশিত)

এ গান কে বাঁধিল 
তব কন্ঠে সজিবে  বলিয়া ?
এ নূপুর কে গড়িল
তব চরণে বাজিবে বলিয়া ?
ও রূপ কে রচিল
আপন চিত্ত খুলিয়া ?
নাচে মন্দির মাঝে
উর্ধে বহু তুলিয়া !

Wednesday, 10 June 2015

যেদিন নেব বিদায়

আজ আবার একা ..
এই একলা জানলার ধার,
রৌদ্রে তপ্ত ফ্লাই ওভার । 
রাস্তা থেকে গাড়ির শব্দ
ভেতরে একাকী অন্ধকার !


মনে পরে সেদিন ..
প্রথম এসেছিলাম যেদিন ..
এক চোখ স্বপ্ন নিয়ে ..
এ ল্যাব তখন
বর্ষার নদীর মত টইটম্বুর !
ব্যস্ত কর্মনিষ্ঠ সরব,
মাঝে হালকা হাসির খুচরো কথা। 
বিকেল হলে
দল বেঁধে টি ক্লাব-এ  উত্সব |


দিন বদলেছে ..
কত সময় বয়ে গেছে অবিরাম। 
বদলেছে কত মুখ
কত আশা হয়েছে চুরমার !
তবু ভাঙ্গা কাঁচের আলোতে
মন কুড়িয়েছে সুখ ।

এই জীবন তটে
কেউ আছে কেউ গেছে ।
নতুন কচি কাঁচার ঢল
আবার তাদের নিয়ে হয়েছে সোরগোল ।


তারই মাঝে জীবনে ওঠা নামা ;
কখনো চড়াই কখনো উতরাই !
অন্ধকারে অসহায় হাহাকার,
আবার তারই  মাঝে আলোর রোশনাই !


জানি একা এসেছিলাম
একাই  যেতে  হবে চলে  !
দিন শেষে কাজ ফুরালে ;
আসবে আমারও বাড়ি ফেরার পালা ..
চুকিয়ে সব হিসেব নিকেশ
আমারও দিন হবে শেষ !


তবু রয়ে যাবে আমার স্মৃতিখানি !
যদি পুরনো পার ধরে,
কাজের অবসরে,
নাউ বাইতে যাও
স্মৃতির উপলে পাবে আমার নাম খানি !

এই একলা  জানলার  ধার
রৌদ্রে তপ্ত  ফ্লাইওভার
রাস্তা থেকে গাড়ির শব্দ ..
সবই  রয়ে যাবে
শুধু থাকব না আমি
পরে রবে রিক্ত চেয়ার !


চলে যাব নিশব্দে
প্রাচীন স্মৃতির পাতায় !
যেদিন নেব  বিদায় ..

Friday, 5 June 2015

আম কথা

প্রিয় দই,

আজ কাকু তোমাদের বাড়ির আম দিয়ে গেলেন। অপরূপ তার স্বাদ ! খেয়ে আমাতুর হয়ে গেছি  চরম আমাসক্ত হয়ে ক'লাইন লিখেই ফেললাম :


তোমাদের গাছের আম,
আম তো নয়..
যেন পেয়ালা ভরা জাম..
এর স্বাদের নেশায় হায়
জীবন মজে যায় ..
এর মিষ্টি আবেশে
রঙ্গীন হর শাম !


---

তোমাদের গাছের আম,
আম তো নয়
যেন বৈশালীর আম্রপালি !
হৃদয় মাঝে লাস্যময়ী
মুখে দিলেই এক ফালি ।


--

তোমার গাছের আম..
হৃদয় পত্রে লেখা রবে
এর স্বাদের অমর নাম..
মুখে দিয়ে হায়
অমৃত স্বাদ পাই !
হৃদয় মন্দির পুণ্য হলো
ধন্য চিত্ত ধাম । 

----

আম্র কুঞ্জে বাজে বেনু
আম্র গন্ধে মজে তনু
ব্যাকুল হৃদয় নিয়ে হায় ।
মরে যাই আম পিয়াশায় !
কত অপেক্ষা পরে পেলাম
এমন আম্র ধেনু !


---


এবং সব শেষে একটু ইংরেজি বুলি :

when a man goes
to taste your mangoes
his heart is fragrant
like a newly blossomed rose!

Friday, 15 May 2015

শুভ জন্মদিন : মন্দার স্যার

আজ এ শুভ দিনে,
হে ধৃতিমান !!!
গাহি তোমারই জয় গান ।মোদের শুভেচ্ছার ডালি খানি লয়ে
হয়ো তুমি চির আয়ুষ্মান !
তব জীবন কাননে ।



এসেছিনু একেলা তব দেব অঙ্গনে !
দিয়েছিলে স্থান,
পরম সযতনে  স্নেহের আসনে ।
সেই দিন হতে
কত মহিমার দান
করেছ অম্লান ।
কত সুধা কণা
করেছি গো পান
তব চরণ-গঙ্গা হতে
তব আনন্দ নিকেতনে ।


হয়তো  রহিব না আগামী বত্সর
এই দিনে,
তোমার সনে !
হয়তো হইবে না দেখা ।
তবু এই স্মৃতির মালিকা
যা পরায়ে দিলেম আজি
তব কন্ঠে,
বাজিবে তাহা বেনু হয়ে
ফুলের রেনু লয়ে
তব মন্দির প্রাঙ্গনে ।

-----

জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা নেবেন স্যার !!

 আপনার deadline-বিহীন, তাগাদা-বিহীন, TO-DO list-বিহীন জীবন কামনা করি । আশা করি একদিন "জানা হয় নাই, শেখা হয় নাই" এমন জিনিস গুলির প্রতি সুবিচার করতে পারবেন । আর অবশেষে, আপনার না পড়া, না দেখা বই এবং সিনেমা গুলি এবং কাজের চাপে অপূর্ণ সাধগুলোর জন্যে সময় বের করতে পারবেন        

Wednesday, 13 May 2015

আশা

অবশেষে হলো প্রতিক্ষার অবসান !
অন্ধকারে আলোর প্রতিক্ষা ..
ধূসর মরুভূমে জলের প্রতিক্ষা ..
যেমন উত্তর মেরুতে অগণিত মাস,
অগণিত দিন
আঁধার-ক্লান্ত মানুষ 
সুর্যোদয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে ...
যেমন কালাহারিতে অগণিত মাস
অগণিত দিন
তৃষ্ণার্ত মানুষ
আকাশে মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকে..
কিন্তু, ওঠেনা সূর্য, আসেনা বর্ষা !
তবু আশ মেটেনা..
ব্যার্থ ক্লান্ত চোখে ঘুম নেমে আসে ..
পরের দিন হয় আবার আশার সমারোহ !
শাস ফুরিয়ে যায়, তবু আশ মরে না..
মানুষ এই আশ বুকে নিয়েই বিদায় নেয়
পরের জন্মে আবার আশ করবে বলে ..
আবার পূর্বাচলের দিকে চেয়ে থাকবে বলে
আকাশের মেঘের দিকে চেয়ে থাকবে বলে ..
জীবন শেষ হয়ে যায়..আশ শেষ হয়না !
কারণ জীবনের নামই আশা !
আশাই মানুষের শাসের ইন্ধন ..
সে আশ না মিটলেও .. সে পথে হাঁটাই জীবন  ।

Monday, 6 April 2015

'ইয়ে'র দোষ

সকাল বেলা । নগেন বাবুর সাথে তপেন বাবুর সাক্ষাত ।

নগেন বাবু :    আরে তপেন বাবু যে ! প্রাতঃ ভ্রমন? নাকি বাজার ?
                  কিন্তু  সাতসকালে মুখখানি কেন এমন ব্যাজার ?

তপেন বাবু :   বলব কি আর মুখ ফুটিয়ে আমার ইয়ের কথা !
                  গত রাতে ইয়ের মাঝে লাগলো বেদম ব্যথা !      

নগেন বাবু :     আহা ! ব্যথায় বুঝি গুলিয়েছে সাতসকালে মাথা ?
                   চলুন বসে, চা খেতে খেতে বলবেন মনের কথা ?

দুজনের পাশের চাযের দোকানে প্রবেশ । এবার চায়ে চুমুক দিতে দিতে আবার কথোপকথন ।

নগেন বাবু  :  এবার  মশাই দুঃখ টুকু  করে ফেলুন শেয়ার,
                  দেখবেন কেমন হৃদয় খানি হয়ে যাবে ক্লিয়ার !

তপেন  বাবু  : বিয়ে করা ইয়ে আমার দিচ্ছে  ইয়ের ছেঁকা !
                  ইয়ে-জ্বালানো কথা তার দারুন ব্যাঁকা ব্যাঁকা !

নগেন  বাবু  : আহা  দাদা ! দিবারাত্র  গিন্নি  কেবল  দিচ্ছে  বুঝি  খোঁটা ?
                  বিনা  কারণে  প্রেস্টিজেতে মারছে বুঝি  ঝেঁটা ?

তপেন  বাবু  :    কারণ  একটি  আছে  মশাই ! সে তো নহে কম !
                    বুড়ো বয়সে কমেছে  যে আমার ইয়ের দম !

নগেন  বাবু  (একটু লজ্জিত  হয়ে, গলা  খাকরে, লঘু স্বরে ) :
                           
                   সে  মশাই এই  বয়সে একটু কমে যায় !
                এখন কি আর আগের মত তেমন ভালো হয় ?

তপেন  বাবু  (উত্তেজিত  হয়ে ) :

                        না না  মশাই ! এখনো আমার ভালই ইয়ের তেজ !
                        লেডিস কিটি পার্টিতে আমার ইয়ের দারুন ক্রেজ !

নগেন  বাবু  (উত্তেজিত  হয়ে ) : 
 
             বলেন কি মশাই ! হৃদয় আমার কাঁপচে শুনে যে !
                 পরস্ত্রীদের  সাথেও বুঝি করতে হবে ইয়ে ??

তপেন  বাবু  (নিজের মনে, নিরাশ  হয়ে) :           

                         একদিন, আমার ইয়ের গুণে কত সুন্দরী হয়েছে ফ্ল্যাট !
                         যেন প্রতি বলেই গ্লেন ম্যাকগ্রা বলেন  "হাউ ইস দ্যাট ?"

নগেন বাবু :             তখন মশাই আপনার কি হয়েছিল বিয়ে ?
                           ঘরে কি তখন অবস্থিতা বিয়ে করা ইয়ে ?

তপেন  বাবু :             
                      না মশাই ! তখন সুখে ইয়ে আমার দারুন ভালো  ছিল
                              
                          কেন মরতে ইয়ে করে  বিয়ে করতে  হলো !

                   তবে, তখন আমার জাঁদরেল ইয়েও আমার ইয়ের গুণে কাবু
                             ইয়ের সময় মুগ্ধ সেও বুঝলেন ইয়ে বাবু ?
 
নগেন  বাবু  লজ্জিত  হয়ে  নিরব । তপেন বাবু  ভাবের  ঘরে  বলে  চলেন :

                              মনে পরে আজও সেই মধুর ইয়ের রাত
                              ইয়ের সাথে ইয়ের সুখে হয়েছিল প্রভাত !

মধুর স্মৃতির চাপা আনন্দে তপেন  বাবু স্তব্ধ হলেন । মুখে মিটিমিটি হাসি । নগেন বাবু  কিছু বলতে ইতস্তত করছেন । অচিরে  তপেন  বাবুর সেই  বিরস বদন ফিরে এলো । তিনি  আবার  বলতে  লাগলেন :

                          গত রাতে ছিল মশাই আমাদের ইয়ের এনিভার্সারী
                            ঢাকায় টাঙ্গাইল কত রকম কিনে দিলাম  সাড়ি ।

                           খুশি হয়ে ইয়ে আমার করেন সেই আবদার
                           ফিরে আসুক পুরনো সেই ইয়ের পুষ্পহার !

                             বিয়ের রাতে সারা রাত করেছিলেম ইয়ে
                          প্রেমের দোলায় মজেছিল সে, ঘোমটা খুলে দিয়ে !
 
                            পুরানো সেই ইয়ের মজায় মজতে চায় আবার
                              আবার যেন রাত্রি খানি হয়ে যায় কাবার !

এবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে তপেন বাবু  বলেন :

                          কিন্তু হায় ! তেমন ইয়ের গুণ আমার নাই কো আর
                                সাধের  মধুর ইয়ে খানি হয়েছে অসার !

নগেন বাবু চরম লজ্জিত, ইষৎ বিব্রত হয়ে তপেন বাবুকে  সান্তনা দেওয়ার  চেষ্টা করছেন । তপেন বাবু  বলে চলেন :

                       এই সেদিন ওনার বাড়িতে, মিসেস মল্লিকের সাথেও করেছিলাম ইয়ে
                             মিস্টার মল্লিকও এসে দিলেন যোগ, হলো মিলিত-ইয়ে !

নগেন বাবুর আতঙ্কে প্রায় ওষ্ঠগত প্রাণ । সেদিনে দৃকপাত না করে তপেন বাবু বলে চলেন :
 
                          আমার  ইয়েতে মুদ্ঘ মিসেস মল্লিক হলেন ফ্যান
                            বললেন প্রতি  উইকেই  যদি ইয়ে করে  যান ..


নগেন বাবু  পালাবার পথ দেখেন । এমন সময় রেডিওতে  হেমন্তের গান ভেসে আসে  "এই  রাত তোমার আমার .. শুধু  দুজনে .." । শুনে তপেন বাবু চমকে ওঠেন । অকস্মাত তাঁর  চোখে জল, মুখে হাসি ফুটে ওঠে ..তিনি বললেন :

                              এই ইয়ে খানি..বিয়ের রাতে করেছিলাম ইয়ে
                              এই ইয়েতেই আমার গিন্নি হয়েছিলেন ইয়ে !
 
চরম বিস্ময়ে, নগেন বাবু বললেন

নগেন  বাবু  :        এত  ইয়ের গোলমালেতে আমার উড়ে গেছে ইয়ে !
                         গানই বুঝি আপনার সেই পুরনো দিনের ইয়ে ?
 
তপেন বাবু (মুখে ঐশ্বরিক আনন্দ) :

                              
                                  সংসার যদি না করতাম, করতাম শুধু ইয়ে
                               রেডিও জুড়ে  বাজতো শুধু আমারি গাওয়া ইয়ে !

                                                               
নগেন  বাবু  (বিশ্বয়ে , আনন্দে  ও  স্বস্তিতে ) :  

                                              ধন্য আপনার ইয়ে মশাই, ধন্য আপনার ইয়ে !
                                        তাহলে, আরেক পেয়ালা চায়ের সাথে হোক জমিয়ে  ইয়ে ?


বহু  অনুরোধের  পর  তপেন  বাবু  ইয়ে ধরলেন "নব আনন্দে জাগো .. জাগো .." । ওনার ইয়েতে ইয়ে হয়ে চায়ের দোকানে সমবেত  শ্রোতা মন্ডলী  ইয়ে ইয়ে করতে  লাগলেন ।

সমাপ্ত ।।
 
পুনশ্চ : উক্ত নাটিকায়, সব 'ইয়ে ' এক ইয়ে নয়, অনেক ক্ষেত্রেই এক মনে হলেও, কোনো কোনো ক্ষেত্রে  'ইয়ে' গুলি আলাদা আলাদা  ইয়ে । ভুল ত্রুটি হলে নিজ গুণে ইয়ে করে দেবেন কেমন ?
    
--

কৃপা 
 
 

Wednesday, 4 March 2015

প্রথম সনেট

বাঁচি যদি সংসার মাঝে দুখ অনাদরে,
বুকে বাসকি গরল লহে ,
নিরব রোদন-ধ্বনি হৃদ গহবরে
পরাজয়-অনলে নিরবে দহে ;
স্খলিনু প্রতিপদ পঙ্কিল বালুচরে
হৃদ-ক্ষত হতে উষ্ণ-রক্ত বহে,
ব্যর্থ প্রতিক্ষণ জীবন সমরে ;
ব্যাকুল সুখ-পক্ষী একাকিনী গাহে ।
তবু মনঃ-ককোনদে জমে আশা-মধু,
অন্ধ মন-গৃহে জ্বলে প্রদীপ-কিরণ
অমনিশা গগনে দীপ্ত আশা-বিধু ;
আশাপূর্ণা স্বপন করিনু বরণ,
উপশমে স্তোত-বাক্য  উচ্চারিনু শুধু
কঙ্কর মাঝে যদি পাই বিজয় রতন ।।

Tuesday, 3 February 2015

শীত

শীতের লেপের উষ্ণতায় 
পেয়েছিলাম  তোমায় ;
মিষ্টি রোদের সকালে 
শিশির হয়ে তুমি এলে ;
সবুজ ঘাসের পাতায় পাতায় 
আবার পেলাম তোমায় ।

ব্যস্ত পথে ধূলি কণায় 
পেয়েছিলাম  তোমায় ;
ট্রামে বাসে মিছিলে  
ভিড় হয়ে গায়ে মেখে ছিলে ;
বিকেলে গরম চায়ের আমেজে
আবার পেলাম তোমায় ।

ফেরার পথে রাস্তায় 
পেলাম তোমায় ;
রাস্তার আলো হয়ে 
জ্বলে ছিলে তুমি ;
আমার ছায়া নিয়ে খেলায় 
পেলাম, তোমার দুষ্টুমি ;
রাতে গরম রুটি আলুর দমে 
আবার পেলাম তোমায় ।

রাতে শোবার সময় 
পেলাম তোমায় ;
চাঁদের  আলো হয়ে 
চোখে  স্বপ্ন বুলিয়ে দিলে ;
গভীর রাতের আলসেমিতে 
নিবিড় করে, আপন করে 
আবার পেলাম তোমায় ।।

Wednesday, 21 January 2015

শুভ বিবাহ : দ্বৈপায়ন

বিয়ের বাঁধনে বাঁধিলো আজিকে
দ্বৈ  এবং শুক্তি ।
বহু দিবসের বিরহ হইতে
ঘটিল আজিকে মুক্তি !
বিয়ের বাঁধনে বাঁধিলো আজিকে
দ্বৈ  এবং শুক্তি ।


হৃদয় খেলার
মধুর লীলায়
মন মানেনা কোনই যুক্তি ;
দূর দূর হতে
ব্যাকুল হৃদয়ে
ব্যথার অভিব্যক্তি !
তাই,
বিয়ের বাঁধনে বাঁধিলো আজিকে
দ্বৈ  এবং শুক্তি ।


মন উচাটন
প্রাণ উচাটন
মরুভূমি সম প্রণয় কানন !
পাওয়া না পাওয়ার
করুন খেলায়
মলিন সহন শক্তি !
তাই,
বিয়ের বাঁধনে বাঁধিলো আজিকে
দ্বৈ  এবং শুক্তি !


মুখে বলি শুধু 
মানিয়ে নিয়েছি,
দিনে দিনে আরো
প্রবীন হয়েছি ।
লোক দেখানো
আবেগ প্রবাহ
হৃদয়ে লুকায়ে নিয়েছি !


তবু জানি ওগো
মনের গহনে
মরেছি একেলা 
মরমে মরমে ;
তুমি ছাড়া ওগো 
সুখ আসেনা
চিত্তে এক রত্তি !
তাই, 
মিলন ডোরে বাঁধিলো আজিকে
দ্বৈ  এবং শুক্তি !


তাই,
ভুবন ভোলানো 
আলোর আসরে
মিলেছে চার নয়ন ;
একাকার হয়ে
সুখের সাগরে
ভাসিছে দুই জীবন ;
সংসার ব্রতে 
থাকুক সদাই 
অশেষ অসীম ভক্তি ;
বিয়ের বাঁধনে বাঁধিলো আজিকে
দ্বৈ  এবং শুক্তি !

Wednesday, 14 January 2015

বিয়ের prelude

দৃশ্য  :  পাতাল লোকের জটলা

দুই পাতালবাসী : নিন্দুক ১ এবং  নিন্দুক ২ এর  প্রবেশ ....

নিন্দুক ১ :

জানেন দাদা,
জবর খবর !!

এই সপ্তা খানেক পরে
আসছে ব্যাপক বদল !

নিন্দুক ২ :

বলেন কি  মশাই ?
এত  শিগগির ?

সবুজ  ঘাসের পাতার দেশে
ফুটবে গেড়ওয়া  কমল ?

নিন্দুক ১ :

আরে না না  মশাই !
সেসব নয় !
শুনুন  তবে,
গুনুন মনে
একটা করে দিন ;
রবিবারের রাত গড়ালেই
বাজবে বিয়ের বীণ !

নিন্দুক ২ :

বীণ কেন শুনি ?
একি মশাই সাপ নাচানোর খেলা ?
কিসের তালে  কিসের নাচন
বুঝবে বুঝি ঠেলা ?

নিন্দুক ১ :

এবার হবে বর-বাবাজির জীবন-মরণ খেল !
ছাদনা তলায়  নেড়ার মাথায়
ফাটবে গোটা বেল !

নিন্দুক ২ :

ওরে বাবা !
তারপর কি টোটাল ব্লাক-আউট ?
সর্ষে ফুল, বিষ ফোঁড়া..
লাইফ একেবারে হেল ?

নিন্দুক ১ :

কেন  মশাই ছট-ফটানি ?
তিষ্ঠ ক্ষণকাল !
বললাম বুঝি
সবুজ গিয়ে আসবে আবার লাল ??

আসল মজা হবে মশাই
প্রথম দিনের সক্কালেতে :

যখন ঢুলু ঢুলু চোখে
বর-বাবাজি
দুহাত মেলে
তুলবে দিব্য হাই ;
ঘুমের ঘোরে
আঁতকে উঠে
বলবে "হায় ! হায় !"

"আমার সাধের পালংকেতে
শুয়ে এটি কে ?"
বুঝবে তখন
চেতন পেয়ে,
"আরে দাদা !
এ যে আমারি
বিয়ে করা 'ইয়ে ' " !

"এই তো দাদা
সেদিন রাতে
ঘটা করে
করলাম একেই বিয়ে !
বাজলো উলু,
বাজলো সানাই,
মালা বদল হয়ে গেল
টোপর মাথায় দিয়ে "!

নিন্দুক ২ :

এগ্গে, একটা পোসনো  ছিল :
'ইয়ে ' মানে কি ইস্তিরি ?
গরম নাকি ঠান্ডা ?
মরম মাঝে ছেঁকা দেয়ার
অন্তবিহীন ফান্ডা ?

নিন্দুক ১ :

তখন সে কি করবে
মশাই ?
ভাববে বসে কি ?
সর্ষে ইলিশ
বেগুন পোড়া?
নাকি
পান্তা ভাতে ঘি ?

নিন্দুক ২  :

শেষের পাতের দই ?
নাকি
প্রথম পাতের শুক্ত ?
খাল কেটে এলো আস্ত কুমির ?
নাকি
প্রথম ফোটা মুক্ত?

নিন্দুক ১ :

ওপর থেকে ভাগ্য দেবী
হাসেন বাঁকা বাঁকা ;
টানা টানির বাজারেতে
টেঁক হবে যে ফাঁকা !

নিন্দুক ২ :

দু কান ধরে
ওঠা-বসার,
জ্বালামুখী শর্ত !
ত্রাহি ত্রাহি
কাঁপবে রবে
স্বর্গ থেকে মর্ত !

নিন্দুক ১ ও নিন্দুক ২ সম্মিলিত ভাবে  :

মরেছে ব্যাটা মরেছে ;
একেবারে মরেছে !
প্রেম-পিরিতির অক্টোপাসে
আষ্টে পিষ্টে ধরেছে !!

দুয়ে মিলে অট্টহাস্য, বিপুল করতালি..

এমন সময় ,
ত্রিলোক জুড়ে শংখ, ঘন্টা ধ্বনি ;

আকাশ থেকে দেবদূতের আবির্ভাব !

তীব্র তেজদৃষ্টি দুই নিন্দুকের পানে নিক্ষেপ ...
নিন্দুক-দ্বয় আতঙ্কিত !!

দেবদূত :

থামুন  তো  মশাই !
খুব তো ভারী
চেটাং চেটাং কথা !!
নতুন বিয়ের মুখে কেবল
মারতে হবে ঝেঁটা ?

বিয়ে মানেই কেবল বুঝি
হাঁড়ি-কাঠে গলা ?
নারী মানেই ঘর জ্বালানি
নিঠুর ছলা কলা ?

দেখবেন মশাই
অন্য রকম হবে
প্রনয় রসের খেল !
ফুটবে হাসি !
নেড়ার মুখে,
পরবে না কো বেল !

দুয়ে মিলে সুখ দুঃখ
করে নেবে ভাগ ,
খেলবে দুজন,
মুলতান মাঠের
সুলতান হয়ে,
দৃপ্ত সহবাগ !

খেপা বাউলের সুরে
দুজনে
নাচবে  তা  ধিন  ধিন !
হই হই করে
রম রম করে
কাটবে সুখের দিন !

নিন্দুক ১ ও  নিন্দুক ২  এর  পলায়ন
স্বর্গ  থেকে  নব দম্পতির ওপর পুষ্প বৃষ্টি !

সমাপ্ত ||

--

কৃপা দা

পুনশ্চ : পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলছি । এই ছোট ভাইয়ের সামনে গুরু দ্বায়িত্ব । তার মন হালকা করার উদ্দেশ্যেই এই কৌতুক কাব্য নাটিকা । এই ধরনের লেখায় আমার আজই হাতে খড়ি । কাজেই ভুল ত্রুটি অনিবার্য ! নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন । আসুন দ্বৈ-শুক্তির আনন্দময় পরিণয়ের জন্যে শুভেচ্ছা জানাই । 

Saturday, 3 January 2015

পাওয়া


খুঁজেছি তোমায় একা একা,
তবু পাইনি তোমার দেখা ...


খুজেছি তোমায়
অমনিশার অন্ধকারে
খুজেছি তোমায়
রাধিকার অভিসারে
দাওনি তুমি দেখা !


খুজেছি তোমায়
তপ্ত রুক্ষ সাহারায়
খুজেছি অতলান্তিকের গভীরতায়;
খুজেছি  তোমায়
কলোরাডোর গহন গুহায়
আমাজোনের আদিম বিভীষিকায়
কিন্তু পাইনি তোমার দেখা !


খুজেছি তোমায়
দৃপ্ত বহ্নি শিখায়
পুড়েছি হাজার পতঙ্গের মত
অব্যক্ত যন্ত্রনায় !
তবু  পাইনি  ওগো  তোমায় ;


খুজেছি  তোমায়
হালকা শীতের আঁচে
রোদ ঝলমলে আরশি- ভাঙ্গা কাঁচে ;
খুজেছি  তোমায়
রাস্তার মোড়ে, অন্ধ গলিতে
শৈবাল ঘেরা  একলা  সৈকতে ..
তুমি  ছিলেনা  সেথায় ;


খুজেছি  কতবার
সেই  সাধের  শিউলি  তলায়
যেখানে  রোদ  খেলে  যেত  শৈশবের  মত ;
যেখানে  সন্ধে  নামলেই
জোনাকির  ঝিলমিল  জ্বলত  অনাবিল ;
যেখানে  জুইয়ের সুবাসে
রুপকথা  ঝরে  পরত  অঝরে ;
আকাশের  তারায়  বোনা সামিয়ানা থেকে ;
যেখানে  একা  একা  বসে  নেশা  লেগে  যেত ;
হারিয়ে  যেত  মন  দুর্গম  অজানায় ;
কত  আশা  ছিল
এবার  বুঝি  পাব  তোমায় !
তবু  হায় !
তুমি  এলেনা  সেখানেও !


আমি  জানতে  চেয়েছিলাম  জানো ?
বনের  পাখির  কাছে,
বেদুইন  বাতাসের  কাছে ;
চঞ্চল  ঝরনার  কাছে,
নদী, সাগর, মেঘেদের কাছে ;
তোমার  কথা |
বলেছিলাম  তাদের
আমার  মনের  গোপন  ব্যথা !
কিন্তু  তারা  কেউ
দিতে  পারেনি  ওগো
তোমার  ঠিকানা ..


এই  ভাবে  যখন
ক্লান্ত , তৃষ্ণার্থ  পথহারার  মত
ঘুরছিলাম  দুয়ারে  দুয়ারে ;
সব  আশায়  দুর্ভিক্ষ দেখছিলাম !
তখন হঠাত --
এক  মিষ্টি  ভোরে
রোদ  ঝিলমিল  শিশিরে
পেলাম  তোমার  দেখা  !


রঙিন  আলোর  বেশে
স্মিত  হাসি হেসে
এসেছিলে  তুমি ;
ধরে  আমার  হাত
আপন  নরম  হাতে ;
চেয়েছিলে  আমার  দিকে
এমন  করে ..
যেন  একফালি  চাঁদ
হেসেছিল  আমার  পানে ;
অজানা  আবেশে  বেঁধেছিলে  আমায়
কোন  গভীর, প্রবল  টানে !


আমি  অবাক  বিভোর  হয়ে
সুধিয়েছিলাম  তোমায়
"এতদিন  কোথায়  ছিলে  তুমি ?
কেন  পাইনি  তোমার  দেখা ?"


অরুন  আলোর  মত  হেসে  বলেছিলে সেদিন
"ওগো  আমার  সখা
ছিলাম আমি একান্ত  অবহেলায় ;
তোমার  মনের  কোণে ;
খোজনি  আমায়  সেখানে 
তাই  পাওনি  আমার  দেখা !"


সেই  মিষ্টি  তিরস্কারে
মনে  জ্বললো  আলোর  প্রদীপ
এলো  আমার  নেভা  সাঁজ বাতিতে
আলোর  রোশনাই ..
সেই  চরম  মধু  ক্ষণে
অমৃত  সুখের  গানে
আমি  পেলাম  তোমায় ..

Thursday, 11 December 2014

মিষ্টি সখী

মিষ্টি সখী দুষ্টু সখী
পাখির সাথে খেলা করো ;
খিলখিলিয়ে মন দুলিয়ে
ফুলের হাসি ফুটিয়ে তোলো ।

তোমার কোমল ছওয়া পেয়ে
পাথরে জাগে গো প্রাণ ;
তোমার হাসিতে হয় গো প্রিয়ে
সকল ব্যথার অবসান ।

কত সাধনার ফল গো তুমি
কত কৃপার দান ;
তোমায় পেয়ে গেয়েছি সখী
পরম সুখের গান ।।

দ্বইয়ের আইবুড়ো ভাত

আজি শুক্তি হৃদয়ে
মুক্ত ধারায়
প্রেমও সুধা কণা বহে ;
ফুলেরো কাননে
মনেরও মিলনে
প্রণয় ভ্রমর গাহে ।

একি মোহ ওগো !
পারিনা সহিতে
জীবন ভরিয়া যায় ;
না বলা কথা
কহিতে  প্রিয়ে
মরমে মরিয়া যাই !

তাই সখী ওগো
মিলিবো তোমাতে
সকল দুয়ার মেলিয়া ;
না বলা কথা
বলিতে তোমারে
আপন হৃদয় খুলিয়া  ।

--

দুএ মিলে কোরো
সাধের সাধনা
নয়নে নয়ন রাখিয়া ;
সুখ দুখ সব
ভাগা ভাগি কোরো
জ্যোত্স্না কিরণ মাখিয়া ।


--

লহ মোর
স্নেহাসিশ মাখা কামনা ;
ঈশ্বরের কাছে করি
তোমাদের অশেষ সুখের প্রার্থনা ।।