Monday, 23 April 2018

शयरि

दिल के शख पर​
जो तरन्नुम फुटे है
सच्चे नहि
वो तो झुठे है |

--

इस मुसकुराहाट के चिलमन को हटाके देखो
हज़ारो टुटे हुए ख्वाब मिलेंगे
इस सुकुन भरि सिने को चिड़के देखो
देहेकते हुए आफताब मिलेंगे |

काव्यम्

प्रलय् (Pralay) महोदय:,

अहम् भवते एकम् काव्यम् रचयामि। कृपेण पठतु संशोधनम् करोतु च् मर्ग: दर्शयतु । धन्यवाद:।।

हे प्रलय् !
(त्वम्)
ज्ञानम् वितरनाय
न्यायस्य उद्धार्थाय
मम देशे आगतवान,
संस्कृतमातायै भजनार्थाय
भारतदेशे धर्म स्थापनार्थाय आगतवान ।

हे प्रलय् !
(त्वम्)
संस्कृतस्य ज्ञान वृक्षम्
एकनिष्ठम् स्थितप्राज्ञम्
ज्ञाननिधिबिभुषणम
पवित्रम् सुशिलम्
सुहास शोभितम् ।

हे प्रलय् !
तव ज्ञान वृक्षात्
ज्ञान सुधा वर्षति
तव स्पर्शेन
ज्ञानपारिजातम् विकसति ।


हे प्रलय्!
तव निर्देशेण
अस्माकम् ज्ञानपिपासा त्रिप्तति
अज्ञानस्य तिमिरम् निवारनाय
तव मणीषाशिखा सदा ज्वालयिष्यति ।


हे प्रलय्!
त्वाम्
पुन: पुन: नमामि च
धन्यवादम् ज्ञापयामि ।।

--

English (expected meaning of the above poem)

O Pralay!
To distribute knowledge
To reinstate justice
You have come to my country,
To worship Mother Samskrita
To reinstate Dharma in my country.


O Pralay!
(You are)
A Samskrita wisdom tree
Dedicated, upright
Decorated with the treasure of knowledge;
Holy, well-behaved
Decorated with a pleasant smile.

O Pralay!
From your knowledge tree
Rain holy drops of knowledge,
By your divine touch
Blossoms the Parijaat (the tree of Swarga).


O Pralay!
With your instructions
Our knowledge-thirst is quenched,
To eliminate the darkness of ignorance
Let your flame of knowledge burn forever.


O Pralay!
I salute you again and again
and thank you.
--

এবার বাংলাতেও (কিঞ্চিৎ  পরিবর্তিত)

হে প্রলয়!
জ্ঞান  বিতরনার্থে,
ন্যায়  স্থাপনার্থে
তব আগমন,
সংস্কৃতমাতা বন্দনার্থে,
ভারতদেশে ধর্ম স্থাপনার্থে
তব আগমন ।
হে প্রলয় !
(তব)
সংস্কৃত জ্ঞানবৃক্ষ,
একনিষ্ঠ স্থিতপ্রাজ্ঞ,
জ্ঞানানিধিবিভূষিত,
পবিত্র, সুশীল,
সুহাস-শোভিত ।


হে প্রলয় !
তব জ্ঞান মহীরুহ হতে
জ্ঞান সুধাকণা বরষে,
তব পুণ্য পরশে
জ্ঞান পারিজাত ফোটে হরষে ।

হে প্রলয় !
তব মহিমায়
মোদের অজ্ঞানতা হয় বিলীন,
তব দুনির্বার জ্ঞান শিখা
জ্বলুক অন্তহীন ।

তোমায় জানাই
করজোড়ে
উষ্ণ নমস্কার,
গলায় তোমার পরিয়ে দিলাম
ধন্যবাদের পুষ্পহার |

--

कृपा

অরিন্দমদার ছেলে আর বুলাই-এর মেয়ের জন্যে

প্রথম অরুণ আলো তুমি
নতুন ভোরের ফুল,
তোমায় দেখে আনন্দ আজ
মানে না গো কূল  ।
তোমায় দেখে  দুলছে দেখো
গুলাচ, শিমুল, জারুল
তোমার জন্যে গান ধরেছে  
মত্ত সুফী, বাউল ।

শুভ নববর্ষ

নব অরুণের আলোয় আসুক
নব সৃষ্টির চেতনা
নব প্রভাতের স্নিগ্ধতা আনুক
দুর্লঙ্ঘ্য দুর্বিনীত বাধা জয়ের প্রেরণা ।
সৃজনের উর্বর জমিতে
হোক নব আশার জন্ম,
নব ব্যাপ্তিতে, নব তৃপ্তিতে
নব নিষ্ঠায়, নব প্রগতিতে
স্বপ্ন ভূমিষ্ঠ হোক
পূর্ণতার পারিজাত হয়ে ।


আগামী দিনে সুখের স্বপ্ন চোখে নিয়ে জানাই নববর্ষের শুভেচ্ছা ।

--

কৃপা

শুভ নববর্ষ (ইং) ২০১৮

নব মুকুলের ফোটার আশা হৃদয়ে নিয়ে
নব সূর্যোদয় হোক;
আসুক আলো,
ঘরে ঘরে
অভাগার পর্ণ কুঠীরে,
ক্ষুধিতের জঠর জ্বালায়,
পুরোনো ক্ষতয় স্নেহলেপ হয়ে,
মায়ের সন্ধে প্রদীপের শিখা  হয়ে,
অতন্দ্র সাধকের ললাটে ঘর্ম বিন্দুতে,
নব জাতকের প্রথম হাসিতে,
নব দিগন্তের রঙ মেখে,
নব মৈত্রীর বন্ধনে ।

জানি ১ জানুয়ারী বছরের বাকি দিনগুলোর চেয়ে কোনো মতেই আলাদা নয় । নতুন বছরে পুরোনো নিয়মের একঘেঁয়েমি পুনরাবৃত্তি ঘটবে । কিন্তু তবুও, আগামী ও বিগতের সাঁকোতে, জমা খরচের ভার নামিয়ে, একটু জিরিয়ে নিতে ইচ্ছে করে । পুরোনো ঘড়ির মতো নিজেকে একটু দম দিয়ে নেয়া, উজানে আবার গা ভাসাবার আগে । আবার তো ছুটতে হবে, না পাওয়া স্বপ্নটার পেছনে, যেমন ছোটে শিশু দূর আকাশে কাটা ঘুঁড়ির পেছনে । কখনো নাগাল পাবে কিনা জানেনা । কিন্তু তাও যে ছুটতে হয়, কারণ তাতেই বেঁচে থাকার রসদ, প্রাণবায়ু   ।

সবাইকে জানাই নতুন বছরের শুভেচ্ছা । সবার না-ফোটা স্বপ্ন বাস্তবের মাটিতে উঠুক সাধনার পারিজাত  হয়ে । তার ফুলে, ফলে, শাখায় হাসুক সুখ, শান্তি, প্রাপ্তির অনাবিল তৃপ্তি ।

--

কৃপা

Friday, 24 November 2017

শুভ পরিণয় : অয়ন দা

অবশেষে এলো দেখো
সেই শুভদিন ।

একাকী জীবনান্তে
হবে নব-সূর্যোদয়
অয়ন-বাবুর হবে
যেদিন শুভ পরিণয় ।

বুকের মাঝে হুহুকার
ইতি উতি নয়ন
গৃহিণীর কড়া হাতে
আপনি হবে পালন ।

অবশেষে হবে সব
জারিজুরি শেষ
হবে তুমি (সবার মত)
পত্নী-নিষ্ঠ মেষ ।
জগৎ সংসার করুক
(হয়েছে) বেশ বেশ ।
তারই মাঝে হবে দেখো
চেতনার উন্মেষ ।
দুয়ে মিলে জীবন তরীর
বাইয়ো দাঁড়
সব বাধা করে ফেলো
হেলায় পার ।

ওই বাজে উলূ ধ্বনি
ওই বাজে কাঁসর
ফুলে ফুলে ভরে উঠুক
তোমাদের জীবন বাসর ।
শুভ বিবাহের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই । তোমাদের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসুক, আসুক প্রাপ্তির আনন্দ । যেতে পারলে তোমার চেয়ে বেশি আমিই খুশি হোতাম ! FIRE-এ কিছুটা ঘোলের স্বাদ পাবো আশা করি ।

--
কৃপা

শুভ জন্মদিন প্রসেনজিত-দা

জনক pro-বুদ্ধ
কোশল নরেশ, 
তৎতনয় প্রবুদ্ধ
রূপে গুণে বেশ ।
স্নেহডোরে আবদ্ধ,
কুঞ্চিত কেশ,
চেতনা সম্বুদ্ধ,
সৌমকান্তি বেশ ।

পিতা-পুত্রে সমৃদ্ধ
ধন্য এদেশ,
দ্বিরত্নে উদ্বুদ্ধ,
উৎফুল্ল আবেশ ।।

পিতার অঙ্কুরোদ্গমন দিবসে, কিশলয় পুত্রের মহা-মহীরুহ হওয়ার প্রার্থনায় শরিক হলাম । তোমাদের আগামী জীবন সুখে কাটুক এই কামনা করি ।


--
কৃপা
==============================
সবার উর্ধে তৎজননী
কোশল মহারানী
রত্ন গর্ভা মহিয়সী

মমতা-সিঞ্চিত তাঁর অঞ্চলখানি ।

Tuesday, 31 October 2017

মালি

তোকে লাল মাটির দেশে প্রথম দেখেছিলাম,
তখন তোর ভোর;
তোর গায়ে ফুটেছিলো শিমূল, পলাশ।
তোকে দিয়েছিলাম ময়ূরের রঙ, পরেছিলিস খোঁপায়
তোকে দিয়েছিলাম চাঁদের হাসি, পরেছিলিস ঠোঁটে ।
আমায় বলেছিলিস --
"আমি গোলাপ, রজনীগন্ধা হতে পারি
যদি তুই হোস মালি ।"
এরপর তোর সকাল হলো ।

তারপর তোকে দেখি শিলং-এর কানা গলিতে,
তখন তোর ভীষণ দুপুর !
তোর ঝলসে যাওয়া দেহে
বস্ত্র প্রায় পুড়ে গেছে,
সেটুকুও রাস্তার কুকুর ছিড়ে খাচ্ছে !
গায়ে তোর দগদগে রক্তজবা !
গভীরে তলিয়ে যাচ্ছিলিস,
নরকের চোরাবালিতে !
আমার জামার খুঁট আঁকড়ে ধরেছিলিস
ভাগ্গিস দেখেছিলাম তোকে !

তোকে আনলাম আমার ছোট্ট বাগানে
যেখানে শয়ে শয়ে তুই ছিলিস  ।
কোনো তুই শালুক ছিলিস,
কোনো তুই চন্দ্রমল্লিকা ছিলিস,
অনেক আগে ।

এদের মাঝে তুই একদিন
শাখা গজালি, আবার কচি পাতা হলো ।
দিনে দিনে বটগাছ হলি,
ফুল হলো না, কিন্তু নরম ছায়া হলো ।
তার তলায় আশ্রয় পেলো
কত না-ফোটা কুঁড়ি ।
তোর তখন সন্ধে ।

আস্তে আস্তে তোর রাত হলো,
সেঁতসেঁতে অন্ধকারে এলো
শেয়াল, কুকুর, পেঁচা
আদিম খিদেয় ঝাঁপিয়ে পড়লো,
ক্ষত বিক্ষত করলো তোকে !
কিন্তু তাদের কুঁড়িদের ছুঁতে ছুঁতে
আমার ঘুম ভেঙে গেলো ।

তোর আর ভোর হলো না !
তোর অজস্র ক্ষতয় পারিজাত ফুটেছিলো ।
আমার কোলে মাথা রেখে
শেষ বার বলেছিলিস --
"আমি গোলাপ, রজনীগন্ধা হতে পারলাম না,
কিন্তু এরা হতে পারে ।"

এই কুঁড়িরা আজ
সুগন্ধি ফুলে ভরা বটগাছ হয়েছে
তাদের ফুলও আছে, ছায়াও ।
আমি আজও মালি ।

--
কৃপা

পুনশ্চ : Rescue and Relief Foundation এর মতো সমাজ কল্যাণে আত্মনিবেদিত সংগঠন এবং তাদের নির্ভীক কর্মীদের জানাই আমার অন্তরের অর্ঘ্য ।

Monday, 16 October 2017

শুভ জন্মদিন দেবনৃপ (নীল)

প্রিয় দেবনৃপ,
(আমি বন্ধু কৃপ )

সারাবছর ছবি এঁকে
যাদের করলে ধন্য,
জন্মদিনের আসরেতে
জীবন্ত সেই ডাইনো ।
মুখে তাদের তোমার কাছে
ধন্যবাদের বুলি,
সঙ্গে তাদের তোমার জন্যে
উপহারদের ঝুলি ।

Barapasaurus Tagori,
মনে প্রাণে বাঙালী ।
ধুতি পাঞ্জাবি নাগরাই পরে বাবু বাবু বেশ,
আনলো সে যে  নীলের জন্যে
রাজভোগ, সরপুরিয়া, মনোহরা, সন্দেশ ।

Velociraptor এলো এবার
চীনা প্রজা সেজে,
সঙ্গে সঙ্গে উঠলো শোনো
chinese flute বেজে !
চীন থেকে আনলো সে
নরম সিল্ক-পোশাক,
সঙ্গে আছে কুং পাও চিকেন,
নুড্ল সূপ আর পেকিং ডাক ।
Brontosaurus উঁচু গলা
কুতুব না আইফেল ?
নীলের জন্যে আনলো পেড়ে
তাল, খেঁজুর আর নারকেল ।
Stegosaurus এলেন এবার
গায়ে পরে বর্ম,
শান্ত তিনি করেন নাকো
যেমন-তেমন কর্ম ।
নীলের জন্যে আনলেন তিনি
কড মাছের dish
আনলেন আরও সঙ্গে করে
পর্তুগিজ sea-fish ।
Allosaurus এলেন তিনি
নেচে নেচে এবার
সঙ্গে নিয়ে ইউরোপেরই
হরেক রকম খাবার ।
gelato, য়োগার্ট, আইস-ক্রিম
আর ফ্রোজেন কাস্টার্ড,
চীজ-কেক, চকো-ওয়াফেল
প্যানকেক, স্ট্রুডেল , টার্ট । 

Archaeopteryx এলেন এবার
আকাশ পথে ধেয়ে
হঠাৎ করে ওঠেন তিনি
জার্মান-গীতি  গেয়ে ।
ডাইনো নাকি পক্ষী তিনি
সমাজে ভারী কোন্দল !
নীলের তরে আনলেন তিনি
গ্রীলড চিকেন hendl ।
Spinosaurus এবার তিনি
বীর দাপটে এলেন
নীল কে তিনি ভালোবেসে
কি উপহার দিলেন ?
গাইতেন তিনি গা এলিয়ে
নীল নদের তীরে,
নীলের জন্যে আনলেন তিনি
Kimberly-এর হীরে ।

Dilophosaurus এলেন
সেই সুদূর US হতে 
নীলকে শুভ জন্মদিনে
শুভেচ্ছা বাণী দিতে ।
আনলেন তিনি যত্ন করে
Allen-Edmonds জুতো
সঙ্গে Gucci-এর স্যুট,
Lindt সুইস চকলেট
আর কুকি-বিসকুট ।


সবার শেষে এলেন রাজা Tyrannosaurus rex
তাঁর সামনে সবার হলো ইনফেরিওরিটি কমপ্লেক্স !
নীলের জন্যে আনলেন তিনি
Apple-এর  ট্যাবলেট
সঙ্গে ছিল ঝুড়ি ঝুড়ি
Hersheys চকলেট ।


আরো কত ছোট বড়ো
ডাইনোসর এলো
মিষ্টি নীলের জন্মদিনে
কত্ত মজা হলো !


--
আমার বাবার চোখের অপারেশন ছিল, তাই আমি কলকাতায় এসেছি । তাই  জন্যে নীলের জন্মদিনে ডাইনোসর আর মানুষের অভিনব সমাগমে আসতে পারলাম না । আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইলো নীলের সুখময় ভবিষ্যতের জন্যে । অনেক বড় হও, মা-বাবা আত্মীয় স্বজনের মুখ উজ্জ্বল করো, এই কামনাই করি ।


--
কৃপা মেসো

Monday, 2 October 2017

আবার মিঠুন চক্রবর্তীর খপ্পরে !


 


২০১১ সালে কোনো এক রবিবার একাডেমি অফ ফাইন আর্টসের সামনে দেখেছিলো ISI-এর প্রসেনজিৎ-দা, জিয়া-দা, দীপা-দি, কণা (দীপাদির বোন) প্রভৃতিরা আমার হাস্যময় "photogenic face" আর সেটি অঙ্কনরত জনৈক মিঠুন চক্রবর্তীকে । এখানে বলে রাখি, এই মিঠুন চক্রবর্তী একজন পোর্ট্রেট শিল্পী, আমাদের ডিস্কো ডান্সার মিঠুন-দা নন । এই শিল্পীর কাজই হলো আমার মতন "মুখের-ওপর-না" না বলতে পারা,  "photogenic face"- ধারী ব্যক্তি পাকড়াও করে নিমেষের মধ্যে তাদের ছবি এঁকে এবং তাদেরকেই সেটা বিক্রি করে তাদের কাছে নিজের অসামান্য প্রতিভার মূল্য আদায় করা ।

২০১১ সালে আমার সাথে এই ঘটনা ঘটেছিলো। আজ আবার ঘটলো । অকস্মাৎ, বিশেষ কিছু ঠাহর করার আগেই ! শশুর বাড়ি থেকে ফেরার সময় কি মনে হলো, একবার একাডেমির সামনেটায় ঘুরপাক খাচ্ছিলাম আর প্রজাপতি বিসকুট সহযোগে চা সেবন করছিলাম । এমন সময় প্রায় মাটি ফুঁড়ে এই শিল্পীর আবির্ভাব ঘটলো ! যেমন নাম, তেমনি কাম ! আমার সাথে ঠিক ২ মিনিটের ভূমিকা -- "এই আপনাকে ভদ্রলোক বলে মনে হচ্ছে, আমি কিন্তু সবার ছবি আঁকি না, আপনি মুখের ওপর 'নেহি চাহিয়ে' বলা বড়োলোকের ব্যাটা নন" ইত্যাদি । আমিও ভ্যাবাচেকা খেয়ে দুর্বল বিবাদী পক্ষের উকিলের মতো অচল যুক্তি ছুঁড়ে দিচ্ছিলাম  -- "মানে বলছি কি, এক্ষুনি বৃষ্টি নামবে, তায় মহরম... রাস্তায় বাস কম, একটু তাড়া ছিলো" ইত্যাদি । কিন্তু আমার বিনীত অনুরোধে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত না করে ইতি মধ্যে শিল্পীর ক্ষিপ্র হস্তের পেন্সিল কার্ডবোর্ডে আঁটা কাগজে ললিত কলা সৃষ্টি করতে শুরু করে দিয়েছে । আমি আরো বললাম -- "না মানে আপনি কিন্তু বেশ কিছু দিন আগে আমার ছবি এঁকেছিলেন, সে ছবি এখনো আমার কাছে রয়েছে" । এটা বলায় উনি থামলেন । আমি ভাবলাম, এইবার বোধ হয় ওষুধ ধরেছে । কিন্তু উল্টে আরও উৎসাহ পেয়ে শিল্পী বললেন -- "তবে ! হতেই  হবে ! আমায় কি হেঁজি পেঁজি পেয়েছেন নাকি ? আমার নাম মিঠুন চক্রবর্তী ! আর্টিস্ট ! তবে এ ক'বছরে  আমার হাত আরও খুলেছে ! আগেরটার সাথে এইটা মিলিয়ে নেবেন!" বলে দ্বিগুণ উৎসাহে কাগজে পেন্সিল সঞ্চালন করতে লাগলেন । আশপাশের লোকজন উৎসুক দৃষ্টিতে একবার আমার দিকে, একবার শিল্পীর ক্যানভাসের দিকে তাকিয়ে চলে যাচ্ছিলেন, কারো মুখে মিটি মিটি হাসি । আমার ঠিক বাম দিকে এক ডানপিটে ধরণের মেয়ে সিগারেট ফুঁকছিলো । সে ফোঁকা থামিয়ে চোখের সামনে জলজ্যান্ত মূর্তিমান শিল্প অবলোকন করছিল । সামনের টিকেট কাউন্টারে অনুসন্ধানী লোকজন এদিকে দেখে কিসব কানাকানি করছিলেন । আমিও লজ্জা লজ্জা মুখ করে তাদের দিকে চাইছিলাম । তাই দেখে মৃদু হুকুম এলো "আমার দিকে তাকাবেন  দাদা" ! হুকুম তামিল হতেই তিনি বলে চললেন "আমার হাতের যে উন্নতি হয়েছে, একথা শুধু আমি বলছি না দাদা । স্বয়ং দিদি বলেছেন ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় !" আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম "তা আপনি কি ওনারও ...?"  "ধুর ওনার অত  সময় কোথায় ?? কিন্তু দিদি আমায় একাডেমির ভেতর জায়গা করে দিয়েছেন । দিদি জিন্দাবাদ ! আমার সামনে ওনার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে রক্তারক্তি হয়ে যাবে এক্কেবারে !" আমি মনে মনে ভাবলাম "আমার ঘাড়ে কটা মাথা !" শিল্পী বলে চললেন (ওনার পেন্সিলের চলাচল অব্যাহত) -- "তবে শর্মিলা দিদি -- ওই যিনি 'আরাধনা' করেছিলেন, ওনার ছবি এঁকেছি ; রাজেশ খান্নার এঁকেছি, আপনাদের মিঠুনদার ছবি এঁকেছি । আজ আপনার আঁকছি !" শুনে আমি হাসবো না কাঁদবো ঠিক বুঝতে পারছিলাম না । আর অসহায় ভাবে চিত্রিত হওয়া  ছাড়া আর কি করবো, সেটাও বুঝতে পারছিলাম না! শিল্পীর হাত আর মুখ একই গতিতে চলছিল। হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছিলাম এনার নামের সার্থকতা ! শিল্পী বলে চলেছেন, ছবিতে ফিনিশিং টাচ দিতে দিতে, "তারকারা তো একদিন আঁকাবেন, ৫০০ টাকা দেবেন, ব্যাস ! কিন্তু আপনারাই তো আমাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, নাহলে কি আর ছবি এঁকে পেট চলে দাদা "!

অবশেষে আমার পোট্রেট শেষ হলো (attached) । আমার খুব যে মনোপূতঃ হয়েছিল তা নয়, কিন্তু মাত্র ৮-৯ মিনিটের মধ্যে এইটুকুও করা সহজ নয় । আমি এককালে শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, প্রচুর ছবি আঁকতাম । কিন্তু একদিন নিজের চরম অযোগ্যতা বুঝতে পেরে ইতি টানি ! তাই শিল্পীদের প্রতি আমার মনে অনেকখানি সম্মান জমা রয়েছে, তা অনুভব করি কোনো শিল্পী এবং তাঁদের আঁকা ছবি দেখলেই । তাই হয়তো এবারেও মুখের ওপর না বলতে পারিনি । এছাড়া ২০১১ সালের সেই দিন আমরা "চিরকুমার সভা" দেখেছিলাম, খুব ভালো লেগেছিলো ! সেই সব সোনালী দিনের স্মৃতির ছবি মনে প্রাঞ্জল হয়ে উঠছিলো আজ এই পোর্ট্রেট আঁকানোর সময় । তাই  নির্বিবাদে শিল্পীকে তার কাঙ্খিত পারিশ্রমিক দিয়ে খুশি মনে বিদায় নিলাম আমার নতুন পোর্ট্রেট নিয়ে । ওনার হাত আরও ভালো হয়ে যাওয়ার কারণে আগের বারের চেয়ে কিছু বেশি নিলেন, বলাই বাহুল্য !

Thursday, 31 August 2017

টপ্পাইের জন্মদিন

আজ টপ্পাইের জন্মদিন,
বৃষ্টি নাচে তা-ধিন-ধিন ।
আজকে আবার মজার দিন,
বৃষ্টি নাচে তা-ধিন-ধিন ।

~@~
 

আজ কি পরেছে টপ্পাই ?
দেখে আসি চলো ভাই !
মুকুট-ধুতি-পাঞ্জাবি । 
ঠিক তাই! ঠিক তাই !
বাদশাহী নাগরাই । 
ঠিক তাই! ঠিক তাই !



আজ কি পেয়েছে টপ্পাই ? 
 দেখে আসি চলো ভাই !
হরেক রকম উপহার । 
ঠিক তাই! ঠিক তাই !
সাত রাজার রত্ন হার । 
ঠিক তাই! ঠিক তাই !

আজ কি খেয়েছে টপ্পাই ?  
দেখে আসি চলো ভাই !
মাংস পোলাও কালিয়া ।
 
ঠিক তাই! ঠিক তাই !
পায়েস বোঁদে পান্তুয়া ।
ঠিক তাই! ঠিক তাই !
আজ বেজায় খুশি টপ্পাই ।
ঠিক তাই ! ঠিক তাই !
আজ যা ইচ্ছা তাই পায় ! 
ঠিক তাই! ঠিক তাই !

~@~

বাজলো কাঁসর,
বাজলো বাঁশি,
সবার মুখে সাজলো হাসি ।

কেকের গন্ধে ম-ম,
পেটের মধ্যে চোঁ-চোঁ ।

মনোহরা সরভাজা,
পেট পুরে খেয়ে যা ।

সবার আশীষ ওই যে ঝরে,
টপ্পাইের মাথার 'পরে

----
টপ্পাইের জন্যে রইলো বুক ভরা শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা । ওর জীবন আনন্দ, পূর্ণতা ও পবিত্রতায় ভরে উঠুক -- এই কামনা করি ।

--
কৃপা (কাকু/মামা?)

Tuesday, 8 August 2017

বৃষ্টি ও আমি

কলেজ  থেকে
বাড়ি ফেরার পথে
হঠাৎ দেখা হতো তোর সাথে ;
জল-জমা রাস্তায়,
খোলা আকাশের শামিয়ানায়
কত আড্ডা দিতাম তোর সাথে,
কত ফাজলামি, কাদা জলে জল-কেলি;
তোতে ভিজতাম আমি,
আমাতে তুই ।

আসতিস আমার সাথে বাড়ি পর্যন্ত
আবার হারিয়ে যেতিস হঠাৎ,
কিচ্ছুটি না বলে !
আবার দেখা হলে
করতাম কত গোঁসা
কিন্তু একটুও রাগ করতিস না তুই ;
বেয়ারার মতো ঝড়তিস আমার গায়ে ।

ধরতে চাইতাম তোর হাত
পাশ কাটতিস, ফস্কে যেতিস তুই ;
তোর হাসি নূপুর বাজাতো
পাতায় পাতায়, জলে ডোবা পাড়ার মাঠে ;
ওপর দিকে চেয়ে খুঁজতাম তোকে
ঝাপসা করে দিতিস আমায়
কানামাছি খেলতিস আমার সাথে ।

এখন আমার অনেক কাজ
বড্ডো হয়েছি বড়ো !
অনেক মুন্সিয়ানা শিখেছি ,
বোকা বোকা শখগুলো হয়েছে বাস্তুহারা ;
তোর সাথে হয়না কথা ;
শুধু জানলা দিয়ে দেখি তোকে ;
ছেলেবেলার স্বপ্নগুলো খেলা করে আমায় ঘিরে,
হারিয়ে যাস তুই  -- অনেক কাজের  ভিড়ে !

কাজ থেকে বাড়ি  ফেরার  সময়
এক  বেখেয়ালি  লহমায়,
রাস্তার  ল্যাম্প পোস্টের
ওই গলা সোনার আয়নায়
খুঁজি শৈশব;
খুঁজি তোকে;
খুঁজি সেই  হারানো দিনগুলোকে ;
খুঁজি সেই  বাঁধন-ছাড়া  আমি-কে;
জমা  জলে  দেখি
কাগজের  নৌকা
যা  ভরাডুবি  হয়েছে  অনেকদিন
কতকি দ্বায়িত্বের ভারে !

[বিরতি]

আজ আবার খোলা রাস্তায়
আকাশের দিকে চেয়ে আছি ;
আয় নেমে  আয় আর একটিবার
মনের কিউবিকলে ;
ভাসিয়ে দে জমা খরচ,
হিসেব নিকেশ, কর্ম-ব্যস্ত সালতামামি ।

ইস্কুল ফেরত
ভেজা বিকেল
ফিরিয়ে দিয়ে  যা,
বেখেয়ালি অবচেতন
ভরিয়ে  দিয়ে  যা ।

আবার চেনা  খুনসুটিতে
আমায় জাপটে ধর তুই ;
কণায় কণায় পাই তোর  স্নেহ,
আদরে বুলিয়ে দে  মাথা ;
বলি আবার বোজা চোখে
সেই হারিয়ে  যাওয়া  কথা ।


--
কৃপা

Tuesday, 9 May 2017

২৫শে বৈশাখ

তুমি এসেছিলে বৈশাখী হয়ে,
পাপড়িতে রেণুতে স্ফুলিঙ্গ সাজিয়ে,
কাঁকনে নূপুরে প্রেম বাজিয়ে ;
শ্রাবণ হয়ে বিদায় নিলে ।

দিয়েছ প্রাণ ভরে
নিয়েছি সব আঁচল করে ;
-- শৈশব, গাছতলা, চিলেকোঠা
মনের গহিনে রয়েছে জমে ।
জীবনের সালতামামিতে
যখন হিসাব নিকাশ আসে কমে
সব বুকে নি নিবিড় করে ।


কত দোয়াত করেছি খালি
ছেঁড়া কাগজের স্তুপে করেছি জঞ্জাল,
কত অবসরে, খেলার ছলে
হয়েছি তোমারই কাননে বনমালী ।


আঁকড়ে তোমারই কায়া 
বুঝেছি ব্যর্থ হয়ে
হবো না কখনো তুমি ;
তবু পড়ে রবো
তোমার পদ রেনু মেখে
হয়ে তোমারই অচেনা ছায়া ।