Thursday, 13 March 2014

অচেনা তুমি




(১)
কে তুমি এলোকেশী,
ভদ্রবেশী ?
হাসো এমন মধুর করে
বাজিয়ে বাঁশি সর্বনাশী ?
এক ফালি চাঁদ হাসে
তোমার দু চোখের জল মহলে 
রং ঝড়ানো অঙ্গে তোমার
জ্বলে রূপ সর্বগ্রাসী ।

(২)

একি অবুঝ খেলা,
মায়া ঘেরা প্রহেলিকা ?
মিষ্টি হাসির যবনিকা ;
তার আড়ালে --
কত না বলা কথা,
কত না বলা সংলাপের মহড়া,
কত না ঘটা দৃশ্য,
কত গোপনে দেখা
স্বপ্নের ছবি আঁকা ।

Thursday, 27 February 2014

পাপ

মাঝে মাঝে জাগে কি উত্তাপ,
কালাহারি তাপে কেউটের বিষ মাখানো পাপ ?

জীবনের যাঁতাকলে পিষে নিংড়ে বেরোতে  চায়
চাপা নরকের অবীলতা ।
চাপা ঘেন্না, চাপা ব্যথা,
চাপা কান্নার কথা ।
বিতৃষ্ণা ধরে যায় দৈনন্দিন টানাপোড়েনে,
ভাবো, যদি একটু খারাপ হই
ক্ষতি কি?
আড়ালে আবডালে যদি
লালশা চুবিয়ে নি গোপন অন্ধকারে
ক্ষতি কি ?

ভিড়ে,  ভালো মানুষের মুখোশ খানা পরে
জন অরণ্যের কোলাহল ঠেলে দেখো
সেই হাল ফেশানি বসন এর আড়াল থেকে
উদ্দীপ্ত যৌবন দেয় উঁকি !
মন কি চায়
সেই নীল আব্রুর অন্তরালে
রূপের আঁচ পেতে ?
তার তন্বীর আগুন
অঙ্গে শুষে নিতে ?

জীবনের যানজটে জট পাকিয়ে যায়
চিন্তা, সুস্থ বাঁচার আশা ।
তখন কি চাও
এই নির্মম অক্টোপাস থেকে মুক্তি পেতে,
রসাতলের চুল্লিতে আত্মা ঝলসে নিতে ?
কোকেন শ্যাম্পেন আতরে
রসনা ভিজিয়ে নিতে ?
নরকের কানা গলিতে
স্বর্গের চাঁদ ধরতে ?
একবার বাঁচার নেশায়,
বার বার মরতে ?

করেনা ইচ্ছা ?
নাকি তীব্র লোক লজ্জা,
নোঙ্গর ফেলে রাখে ?
তোমার ভদ্রবেশের পলেস্তরা
খসে খসে স্যাঁতস্যাঁতে নগ্নতা উঁকি দেয় ?
নৈতিকতার শিকল ছিঁড়ে
কি ভেতরের পশুটা
জেগে উঠতে চায় ?

জঠরের আগুন কি পোড়াতে চায়
বড় লোকের রঙমহল ?
কোলের শিশুর মুখে
অন্ন দিতে কি শরম বেচতে হয়
বস্তির অন্ধকারে ?

কত পাপ জমা আছে
মনে নির্লজ্জ ভন্ডামির নামাবলী আড়ালে ?
ভীষণ আবেদনে উন্মাদ হও
গহন মনের অন্তরালে ?

 নৈরাজ্য নৈরাশ্য,
আঁধার রাতের আদিকাব্য !
কে সভ্য, কে অসভ্য ?
কে আদিম কে অমর,
মৃত সুপ্তি বন পিঞ্জর !
মায়ার অন্ধকূপ,
ভাঙ্গা চরিত্র ভগ্ন স্তূপ !

এইভাবে অবচেতনে কখন কোন অজান্তে,
এসে দাঁড়াও সেই খাদের প্রান্তে,
আর এক পা এগোলেই তলিয়ে যাওয়া
জড় তনু মন সেঁকে সেঁকে দেয় শয়তানি কালো হওয়া !

তখনই ... ঠিক তখনই ...
কেউ পেছন থেকে জামার খুট টেনে ধরে,
ঘুরে  দেখো অমনিশার ঘোরে,
এক নিষ্পাপ দেব কন্যে !
যেন সুধায় তোমায়,
আলো ঝরা মুখ মন্ডলে
"কেন তুমি আমায় ফেলে ,
অচিরে যাচ্ছ চলে ?"
এক লহমায় মিষ্টি বজ্রাঘাতে,
ফিরে এলে,
এই আবীর মাখা দেশে !
মায়ের স্নেহের দেশ,
ভালবাসার দেশ ।
ফুল পাখির দেশ
চাঁদ তারার দেশ ।
বিবেক মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়,
পরিয়ে দেয় দীপ্তি জ্বলা বেশ !

যতই মন চায় ব্যভিচারী হতে;
ফিরে এসো বার বার এই পুণ্য স্রোতে,
পরম শান্তি সৈকতে !


Saturday, 22 February 2014

সুভ্রজিতের ছেলের জন্মদিন

(১)
ও ফুল তুমি ফুটে থেকো
ফুলের মধু মেখে,
বেড়ে ওঠো আকাশের চাঁদ হয়ে
দু চোখে রঙিন স্বপন এঁকে ।।

শুভ  জন্মদিন ।


(২)

কে হাসে ওগো
অমন মিষ্টি করে,
তার চাঁদ মুখ থাকুক,
সদাই জ্যোত্স্না ভরে ।

জন্মদিনের  শুভেচ্ছা ।

মাতৃভাষা

হে আমার বাংলা ভাষা ।
তুমি আমার মায়ের ভাষা
সাধের আশা, ভালবাসা ।

তুমি খ্যাপা বাউলের গান,
তুমি মঙ্গল কাব্যের আখ্যান ।
তুমি গৌর হরির কীর্তন,
তুমি মহানামের উচ্চারণ ।
তুমি রামকৃষ্ণের বাণী,
তুমি বঙ্কিম শরত কাহিনী ।
তুমি বীর নজরুলের হুঙ্কার,
তুমি লালন গীতির টঙ্কার ।
তুমি রবি ঠাকুরের গীতাঞ্জলি,
তুমি কবিগান, তুমি পাঁচালি ।
তুমি ঋত্তিক-মৃণাল-সত্যজিতের চিত্র,
তুমি ওঙ্কার, তুমি তর্পণ, তুমি স্তোত্র ।


তোমাতে মায়ের স্নেহ চুম্বন,
প্রিয়ার নিভৃত স্পন্দন ।
তোমাতে অনুরোধ তোমাতে উপরোধ
তোমাতে মৈত্রী তোমাতেই বিরোধ ।
তোমাতে বিবাদ তোমাতে কোন্দল
তোমাতেই আবার মিলনের হিন্দোল ।
তুমি অভিমান তুমি উচাটন
তুমি সম্পর্কের সাতকাহন ।

সবিই তোমার মহিমায়,
সবিই তোমারি অঞ্চল ছায়ায় । 

তোমাতেই প্রথম 'মা' ডাকা,
তোমাতেই প্রথম চোখে জীবনের স্বপ্ন আঁকা ।
তোমাতেই প্রথম ব্যথার অভিব্যক্তি,
প্রথম সুখের প্রথম অনুভূতি ।
তোমাতেই প্রথম চোখে চোখ রেখে হৃদয়ের কথা বলা,
তোমাতেই ভাবের ডালি খোলা ।

তোমাতেই মাঝি মোল্লাদের গান,
তোমাতেই ভাটি তোমাতেই  উজান ।
তোমাতেই ভোরে আগমনীর সুর,
তোমাতেই হয় শারদ অবসান বেদনা-বিধূর ।
তোমাতেই জনমে উল্লাসের রোল,
তোমাতেই বুক ভাঙ্গা হরির বোল ।
 
তোমাতেই জনম, তোমাতেই জীবন,
তোমাতেই কৃষ্টি, তোমাতেই মনন ।  

কত সাধ নিয়ে বলেছি তোমাতে কত কথা,
লিখেছি কত সুখ কত ব্যথা ।
তোমাতে বুনে শব্দ জাল,
খুলেছি সকল বন্ধ দার ।
তোমাতে  জ্বেলে জ্ঞান-মশাল,
ঘুচিয়েছি মনের অন্ধকার ।

কত কিছু পেয়েছি ওগো তোমার চরণ তলে,
তাই পরিয়ে দিলাম এই শ্রদ্ধার মালা তোমারই গলে ।

শেষ কথা টুকু
বলতে চাই হাত দুখানি তুলে
তোমার কোলে জন্মেছি গো
যেন মরি তোমার কোলে ।

শুধু এত টুকু আমার তুচ্ছ অভিলাষা,
ওগো আমার বাংলা ভাষা ।
আমার সাধের আশা, ভালবাসা ।

Thursday, 20 February 2014

অসীমের খোঁজে

হে সুন্দর !
হে ভাবের সমুন্দর,
রস সলীল পারাবার,
অনন্ত সুখের আধার,
যার নেই পারাপার ।
তোমার আলোকে ডুবতে চাই নিরন্তর,
তোমার চরণ তলে খুঁজি সুখ অমৃত প্রান্তর ।
নেশা কাটেনা তোমার মহিমার,
করুনা তোমার অসীম অপার ।

ছুটে ছুটে যাই
বাউলের ন্যায়
দেশ থেকে দেশান্তর ।
পাইনা তোমার দেখা
তোমার রূপ আনিলে সলিলে সমীরে
কৃপা তোমার খুঁজি ফিরি নীড়ে নীড়ে ।
তোমার রূপ জ্বলে চাঁদে আকাশের তারায়
দেখি তোমার প্রতিচ্ছবি নয়নের তারায় ।
শুনি তোমার বংশী ধ্বনি আকাশে
পাই তোমার সুগন্ধ অপরূপ বাতাসে ।
শুধু পাইনা তোমার দেখা
শুধু একা একা করি
তোমার গুনগান,
তোমার নিষ্কাম অপেক্ষা ।

Monday, 17 February 2014

শুভ জন্মদিন : জিয়া দা

জানি থাকো তুমি বহু ক্রোশ দূরে,
তবু রেখেছি তোমায় ধরে, আমাদের হৃদয় ঘরে ।
রেখেছি তোমার স্মৃতি আপন করে,
তাই এ শুভ দিনে জানাই শুভেচ্ছা ডালি ভরে ।।

জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা রইলো ।

Friday, 14 February 2014

অবুঝ

দেখেছি তোমার শিশির ভেজা রূপ অপরূপ,
নিশ্চুপ মিষ্টি হাঁসি
মাখা ওই মুখশ্রী ;
কিন্তু হায়
বুঝিনি তোমায়
হে বৈষ্ণবী !
আমারই নাম জপে কীর্তন,
করেছ গোপনে
মধূ স্বপনে
জাগরনে
অচেতনে;
করেছ পান
আমারই স্মৃতি-সুধা
সারাক্ষণ ।

ওই সাগর গভীর হৃদয় তলে,
ছিল যত মুক্তো,
ছিল যত সাধ, যত কথা অব্যক্ত ,
 গেঁথেছো কন্ঠহার
সযতনে সন্তর্পনে
আমারই জন্যে ;
বুঝিনি কিছুতেই,
বুঝিনি কোনক্ষণ !
 

Saturday, 25 January 2014

শুভ জন্মদিন : অয়নদা

(১)
আজ এ দিনে,
এক মুঠো আবীরের রঙ দিলাম তোমায়,
উড়িয়ে দিও আকাশে,
এক গোছা ফুলের সুবাস দিলাম তোমায়,
মিশিয়ে নিও বাতাসে ।
মুছে কালো মেঘের অন্ধকার,
আসুক নব আশার সূর্যোদয়।
জাগিয়ে আবার প্রাপ্তির নেশা,
আসুক নব কর্মের অঙ্গীকার ।

(২)

জন্মদিনে যদি জীবন নাহি মিলে,
তবে কিসের জনম, কিসের মরণ ?
যদি তব তেজ নাহি হবে অগ্নি,
যদি গগন-বিদারী হুঙ্কার ছাড়ি
নাহি কাঁপাইলে অবনী,
তবে কিসের তরে জনম লওয়া,
কিসের তরে জীবনের গান গাওয়া ?
কিসের গরবে গরবিনী হবে তব জননী ?


কিসের তরে এ তুচ্ছ প্রাণ ধারণ ?
যদি ক্ষুদ্র বীজ হয়ে পর্বত তলে পিষ্টে হয় মরণ ?
যদি মহা মহীরুহ হয়ে না ওঠো বাড়ি,
যদি অচেতনের শয্যা না ওঠো ছাড়ি,
তবে উদ্ধত স্ফুলিঙ্গ কেমনে জ্বলিবে দাবানল হয়ে,
কর্ম প্লাবন কেমনে আসিবে নব আনন্দের বার্তা লয়ে ?


ওঠো ওঠো হে কিরীটি,
ওঠো হে গান্ডীব-ধারী !
ওঠো হে নির্ভীক,
ওঠো আলোর পথচারী !
পুষ্পক রথে উঠে হে ধনঞ্জয়,
চূর্ণ করে সব ভয়,
হয়ো তুমি দুর্জয় !
তুনীর হতে লহ অগ্নি-বাণ,
ধনুকের ছিলায় দিও টান,
তব টঙ্কারধ্বনিতে ভূলোক দ্যুলোক হবে কম্পমান ।

দেখে তোমার অনল-জ্বলা উষ্ণীষ,
মৃত্যু তোমায় করবে কুর্নিশ;
চুরমার করে জয়দ্রথ-দুয়ার,
বিধির চক্রব্যূহ করে ছারখার;
ছিন্ন করে জড়-শৃঙ্খল,
উড়িয়ে দিয়ে নীল কুন্তল,
রচিবে তুমি জগত কানন ।

হাসি মুখে পান করে বাসকি-গরল,
ফোটাইবে হিংসামাঝে প্রেম-শতদল;
ক্ষীর-সমুদ্রে করিবে নিশ্চিন্ত শয়ন,
তবু ধরণী-বক্ষে রহিবে সদা তোমার চরণ ।


এসো আজি অগ্নি-বালক,
মাথায় লয়ে ময়ূর-পালক;
মৃত্যুঞ্জয় সুখে,
মোহন-বাঁশি মুখে,
হয়ে নিষ্ঠায় অবিচল,
লয়ে হৃদয়ে প্রাণের হিন্দল,
মন্দার-মালিকা কন্ঠে ধারণ করি,
অঞ্চলখানি মণি রত্নে ভরি,
করিও তুমি জগৎ পালন ।


ত্রিভুবনবাসী গাহিবে তোমারই জয়গান,
তব শীর 'পরে রহিবে বিজয়ের শিরস্ত্রাণ ।

এ শুভদিনে,
করি তোমায় সাদর আপ্যায়ন,
পত্রে পুস্পে রঙে রসে হোক আনন্দের বিচ্ছুরণ,
মোর তুচ্ছ নিবেদনটুকু তুমি করহ গ্রহণ ।

শুভ জন্মদিন ।।

শুভরাত্রি

আদি ব্রহ্মান্ডের অসীম শান্তি বুকে,
যেও তুমি উড়ে ঘুমের দেশে অনাবিল অমৃত সুখে,
যেও তুমি তারায় তারায় ফুলের মধু মেখে,
পরীর দল নাচবে তোমায় ঘিরে রঙ্গীন স্বপ্ন এঁকে ।
শুভরাত্রি । ।

Monday, 6 January 2014

তুমি, কল্লোলিনী

যখন আমি চলি ?
আমার ছায়াও সঙ্গ ছেড়ে যায় ;
যখন চলো তুমি ?
চলে বসন্ত, চলে ফুলের সুরভী,
চলে চাঁদ তারা, চলে পাখিদের গান আত্মহারা,
চলে উত্সব, চলে দীপাবলী ।


যখন থামি আমি ?
পাস কাটিয়ে যায় সারা পৃথিবী,
দিবস যামিনী ;
আর যখন থামো তুমি ?
থামে আকাশ, থামে বাতাস,
থেমে যায় ঘড়ি,
থামে নিশ্বাস, থামে স্পন্দন,
তোমায় দেখে ও সুন্দরী ।


যখন হাসি আমি ?
আমার সাথে হাসে না কেউই,
শুধু বাঁকা ইশারায় মুখ ঘুরিয়ে নেয়, সবাই ;
যখন হাসো তুমি ?
হাসে স্বর্গ, হাসে মর্ত্য,
হাসে শহর, হাসে গ্রাম,
হাসে বনের পশু, হাসে কোলের শিশু,
হাসে পাহাড়, হাসে বনানী,
হাসে সাগর, হাসে মরুভূমি ।


তবে,
কখনো যদি কাঁদো তুমি,
পাশে দেখো রিক্ত শশান-ভূমি,
দেখো, তখন পাশে পাবে আমায়,
তোমার সব অশ্রুকণা শুঁষে নেবো বুকে,
তোমার সব দুঃখ আপন করে নিয়ে,
নিজের সব সুখ তোমায় বিলিয়ে দিয়ে,
হাসব আমল সুখে ।
যদি এতটুকু হাসি ফোটে আবার
তোমার ও মুখে,
সার্থক হবে আমার এ গান গাওয়া,
সার্থক হবে আমার জন্ম লওয়া ।

না পাওয়া

আবার ভেবেছিলাম বুঝি পেলাম তোমায়,
সেই গলির মোড়ে,
একলা নদীর তীরে,
সেই চায়ের দোকানের একচালাটার পাশে,
যেখানে এক ঝাঁক সাদা বক উড়ে যায় আকাশে,
যেখানে বয়ে যায় ভাগিরতি সময়ের ধারায় ।



সেই বকুল গাছের তলায়,
বুঝি দেখলাম তোমায়,
সেই চেনা রঙের শাড়ি পরে,
দাঁড়িয়ে আছো মুখ আড়াল করে,
ব্যাভিচারী এলো চুল গড়িয়ে পরেছে কাঁধ বেয়ে,
রিনিঝিনি রিনিঝিনি হাতের চুড়ি উঠছে গেয়ে ।

কিন্তু কাছে গিয়ে দেখি,
একি ??
সে তো তুমি নও,
সে তো অন্য কেউ !
সে অন্য কারো
হাতে হাত রেখে,
তার আদর অঙ্গে মেখে
করে যায় প্রণয় কাব্যি !
আমার সুখে নয়,
সে অন্যের সুখে সুখী,
উন্মুখ চন্দ্রমুখী ।

আবার আঘাত পেলাম !
দু হাত ভরে
সযত্নে রাখা
জুই, মালতি, চন্দ্রমল্লিকা,
টগর, বেল, চম্পা,  
সব ঝরে গেল নিস্তেজ হয়ে,
তাদের সুবাস মিশে গেলো হেলায়,
জীবনের এই পড়ন্ত বেলায়,
মাটির ধুলায় ।

এক বুক রিক্ততা নিয়ে আবার এগিয়ে চলি,
এই একলা পথে,
এক টুকরো আশ নিয়ে সাথে,
যদি আবার পাই তোমায়,
নির্মল শরতে,
হেমন্তে, বা বৈশাখে,
পথের ধারে, নদীর পাড়ে,
বা নির্জন সৈকতে ।




Friday, 3 January 2014

আমার চোখে তুমি : মোনালি ঠাকুর (A Tribute)

প্রথম শুনেছি তোমায়,
শ্রীরামকৃষ্ণ মহিমায়,
শিশু কন্ঠে যবে উঠেছিলে গেয়ে,
"মূরলিতে তব হৃদয়ের কথা ভেসে আসে পবনে,
..সখা হে...."

ওগো আলোকিত এক ইন্দু,
বুঝেছি তুমি অপার গুণের সিন্ধু ।

লাস্যময়ী তুমি নাচো hip-hop নাচো salsa,
দেখি তোমায় মুগ্ধ নয়নে হারিয়ে যায় ভাষা ।

কৃষ্ণকান্তের উইল-এর ভ্রমর হয়ে উড়েছ তুমি ফুলে ফুলে,
হয়েছ তুমি সুরের প্রজাপতি সুরের পাখনা মেলে ।

এর পর Indian Idol, you singing Barbie doll,
সুরেলা হাঁসি মুখে হৃদয়ে এনেছো হিন্দোল ।

কুকনুর এর Lakshmi-এর হাত ধরে
ভাগ্যলক্ষ্মি  উঠুক হেসে,
অনন্ত করুনাধারা
বয়ে যাক ভালোবেসে ।

তখন,
যাবে না তোমায় ছোওয়া
যতই বল "touch me, touch me.."
"jhute mute khwab"
সব হবে সত্যি,
হবে তুমি স্বর্গের পরী,
সুরময়ী, সুন্দরী ।

শুধু মাটির পানে চেয়ো
হেসে ভূবন মোহিনী হাসি,
স্বর্গ থেকে পড়ুক ঝরে,
তোমার নামের পুষ্প রাশি রাশি ।

Thursday, 2 January 2014

পথ

আবার হলো দেখা,
হলো কত কথা বলা,
এক সাথে পথ চলা ।
স্মৃতির আঙ্গিনায়
ফুটল কত কথার কলি
যার সুবাসে সুরভিত
রাজপথ, বনবীথি, গলি,
যেখানে পরেছিল আমাদের পদধূলি ।

কিন্তু সব কথা কি হয়েছিল বলা ?
সেই ব্যাকুল করে দেওয়া কথা ?
যা রেখেছ গোপনে,
মনের নিভৃত কোণে ?
বলেছিলে কি সেদিনে ?

সময় বয়ে যায়,
অক্লান্ত ধারায় ;
না ফোটা কুঁড়ি
ঝরে যায়
না জ্বলা আগুন
নিভে যায় ;
যদি চাঁদ-ঘন
পূর্নিমায়,
স্বপ্নে বোনা চাঁদোয়ায়
ফেলো গোপন অশ্রুজল ।

অচেতনে লালিত মনের সাধখানি,
মেলে দিও উজাড় করে,
চিরবসন্ত বুকে আঁকড়ে ধরে
থেকো আজীবন ।
সার্থক হবে পথ চলা,
সার্থক হবে কথা বলা,
যখন কলি গুলি
ফুল হয়ে ফুটবে
গন্ধে গন্ধে পুলকিত
হবে তোমার মন ।